রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-ধর্ষণ ‘অকল্পনীয়’: গুতেরেস

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-ধর্ষনের মতো যেসব বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে তা অকল্পনীয় বলছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিয়ো গুতেরেস।

সোমবার দুপুরের দিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিয়ো গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম।

এ সময় সেখানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিজ চোখে দেখেন এবং তাদের নির্যাতনের কথা শোনেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

ক্যাম্প পরিদর্শনের ফাঁকেই একটি টুইট করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। টুইটে রোহিঙ্গাদের মুখে রাখাইনে হত্যা আর ধর্ষণের যে বিবরণ তিনি শুনেছেন তা অকল্পনীয় মন্তব্য করে জাতিসংঘ মহাসচিব লিখেন, ‘তারা (রেহিঙ্গা) বিচার চায়, নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে চায়।’

এর আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ বিমানে কক্সবাজার পৌঁছান জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রধান। সেখানে নেমে হোটেল সাইমন বিচ রিসোর্টে যান তারা। পরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ও কুতুপালং ক্যাম্পে যান জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট।

পরিদর্শন শেষে কুতুপালং এক্সটেনশন ক্যাম্পের ডি-ফাইভ ব্লকে সংবাদ সম্মেলন করবেন জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রধান।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুপুর একটা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ট্রানজিট ক্যাম্পের এক্সটেনশন-৪, নিবন্ধিত সি-ব্লক ও ডি-৫ ব্লকের বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। এসময় ইউএনএফপিএ-এর নারী কেন্দ্রে ১০-১৫ জন নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারীর সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর পাঁচটি প্রাইমারি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। পরে ডি-৫ ব্লকে নির্যাতিত ৫০ জন রোহিঙ্গা নারী ও ১০০ জন রোহিঙ্গা পুরুষের সঙ্গে আলাপ করবেন।

বিকাল তিনটার দিকে কক্সবাজার ফিরে আসার পর আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও এনজিও কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে করবেন। এরপর বিকাল সাড়ে পাঁচটা দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে দুই দিনের সফরে গত শনিবার ঢাকায় আসেন আন্তোনিও গুতেরেস ও জিম ইয়ং কিম।

রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর কথা বলেন জাতিসংঘ প্রধান।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা সঙ্কটে ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, এই সঙ্কট উত্তরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও অনেক কাজ বাকি, আর সেজন্যই তিনি ও জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশে এসেছেন।