রোডই নাই ম্যাপ দিয়ে কী হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক : সহায়ক সরকার নিয়ে আলোচনা না করে রোডম্যাপ ঘোষণা করে সংকট নিরসন হবে না এমন দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘যেখানে আগামী নির্বাচনের রোড দেখতে পাচ্ছি না সেখানে ম্যাপ ঘোষণা করে কী হবে?’একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রবিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন। রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করেন তিনি।এর আগে রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী রোডম্যাপ দেয় ইসি।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব ফখরুল বলেন, ‘ইসি ও সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করবে বিএনপি ইসির সংলাপে যাবে কী না। কারণ বিএনপি বরাবরই বলে আসছে নির্বাচন হতে হবে সহায়ক সরকারের অধীনে। অন্যথায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। কাজেই সমস্যা সমাধান না করে ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ কোনো কাজে আসবে না।’দলীয় ফোরামে আলোচনার পর নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।সাতটি কর্মপরিকল্পনা সামনে রেখে বই আকারে এই রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে ইসি। জাতীয় নির্বাচনের এক বছরেরও বেশি আগে প্রকাশিত এ রোডম্যাপ সব রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানোর কথা জানিয়েছে কমিশন।সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘নির্বাচনী রোডম্যাপের এই দলিলই সর্বশেষ কথা নয়। সময় ও বাস্তবতার নিরিখে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন আরও বাস্তবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ইসি ঘোষিত সাতটি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- আইনি কাঠামোগুলো পর্যালোচনা ও সংস্কার; নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ; সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুনঃনির্ধারণ; নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ; বিধি অনুসারে ভোট কেন্দ্র স্থাপন; নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা; সুষ্ঠু নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ।