রোজায় অন্যকে ইফতার বা সাহরি করাবেন কেন?

ধর্ম ডেস্ক : রমজানে ইফতার ও সাহরি গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইবাদতের নাম। যথাসময়ে ইফতার ও সাহরি গ্রহণে রয়েছে কল্যান ও বরকত। এতে মহান আল্লাহ রোজাদারের ওপর খুশি হন এবং ফেরেশতারা বরকতের দোয়া করেন।

রমজানে কাউকে ইফতার কিংবা সাহরি দান করলেও রয়েছে পরিপূর্ণ সাওয়াব। দানের ফলে দানকারী কিংবা দান গ্রহণকারী কারো সাওয়াবই কমানো হবে না। দানকারী এবং দান গ্রহণকারী গরিব কিংবা ধনী হোক, বন্ধু কিংবা আত্মীয় হোক, দূরের কিংবা কাছে হোক, ইফতার ও সাহরি খাওয়ালে উভয়ের জন্যই রয়েছে অনেক উপকার ও সাওয়াব।

>> হজরত যায়েদ ইবনে জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করালো, তারও রোজাদারের ন্যায় সাওয়াব হবে; তাতে রোজাদারের সাওয়াব বা নেকি বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)

>> প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেছেন, ‘যে রোজাদারকে ইফতার করালো, তাকে পানাহার করাল, তাকেও রোজাদারের সমান সাওয়াব দেয়া হবে; তাতে তার (রোজাদারের) নেকি বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না। (তাবরানি, মুসান্নেফে আব্দুর রাজ্জাক)

মনে রাখতে হবে
ধনী-গরিব, দূরের-কাছের, বন্ধু-আত্মীয় যা-ই হোক না কেন, ইফতারের জন্য দাওয়াত করলে তা গ্রহণ করায় রয়েছে অনেক কল্যাণ। ইফতারের দাওয়াত গ্রহণ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তাঁকে এক নারী ইফতারের জন্য দাওয়াত করলো, তিনি তাতে সাড়া দিলেন এবং বললেন, ‘আমি তোমাকে (নারীকে) বলছি, যে ঘরওয়ালা কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তাদের জন্য তার অনুরূপ সাওয়াব হবে।

(ওই) নারী বলল, ‘আমি চাই আপনি ইফতারের জন্য আমার কাছে কিছুক্ষণ অবস্থান করুন, বা এ জাতীয় কিছু বলেছেন। তিনি বললেন, ‘আমি চাই এ নেকি আমার পরিবার অর্জন করুক। (মুসান্নেফে ইবনে আব্দুর রাজ্জাক)

রমজান মাস ও রোজা যেমন আল্লাহর কাছে মহা অনুগ্রহের ঠিক রমজানে রোজাদারকে ইফতার কিংবা সাহরি খাওয়ানোও মহা অনুগ্রহ ও বরকতের।

তাই ইফতার কিংবা সাহরি খাওয়ার কোনো দাওয়াত আসলে তা গ্রহণ করায়ও রয়েছে অনেক সাওয়াব। এর সাওয়াব প্রদানে আল্লাহ তাআলা কাউকেই কম-বেশি করবেন না। বরং সবাইকে সমান সাওয়াব দান করবেন।

তবে সাবধান থাকতে হবে!
ইফতার কিংবা সাহরির নামে কোনোভাবেই খাবারের অপচয় করা যাবে না। আর এ ইফতার ও সাহরিতে গরিব-দুঃখী ও অসহায়দের আমন্ত্রণ করাই জরুরি ও মহা সাওয়াবের কাজ।

আবার কোনো গরিব-অসহায় ব্যক্তির যদি ইফতার কিংবা সাহরির বন্দোবস্ত হয়ে যায় তবে, তাকে ইফতার বা সাহরির টাকা দানেও রয়েছে অনেক উপকার। চাইলে ওই অসহায় ব্যক্তি সে টাকায় কিছু খাবার গ্রহণ করলো আর চাইলে বাকি টাকা দিয়ে সে সাবলম্বী হওয়ার জন্য কোনো কল্যাণকর কাজে লাগালো। আর এ দানের ফজিলত আল্লাহর কাছে আরো অনেক বেশি।

বিত্তবান-ধনীদের সাবধনা থাকতে হবে যে, কোনো ইফতার বা সাহরির আয়োজন যদি গরিব-অসহায়দের জন্য হয় তবে সেখানে ধনীদের অংশগ্রহণ না করাই উত্তম।

আল্লাহ তাআলা রোজার উত্তম প্রতিদান লাভে মুসলিম উম্মাহকে গরিব-অসহায় ব্যক্তিসহ পরস্পরকে ইফতার ও সাহরি করানোর আয়োজন করার তাওফিক দান করুন। রমজানে সবার সঙ্গে পাস্পরিব সদাচরণ করার তাওফিক দান করুন। অসহায় মানুষকে দান-সহযোগিতা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।