রিয়াদের সেঞ্চুরির পর সাকিব-মিরাজের ঘূর্ণি জাদু

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সাকিব-মিরাজদের ঘূর্ণি জাদুতে কাঁপছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় দিন শেষেই জয়ের গন্ধ পেতে শুরু করেছে টাইগাররা। শনিবার মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন নিজেদের প্রথম ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ৭৫ রান সংগ্রহ করে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে ক্যারিবীয়রা। সফরকারীরা এখনো পিছিয়ে রয়েছে ৪৩৩ রানে। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয় ৫০৮ রান করে।

শনিবার দিনের শেষ সেশনে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ২৯ রানে পাঁচ উইকেট হারায় সফরকারীরা। এর মধ্যে সাকিব আল হাসান ২টি ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। ইনিংসের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ওভারের শেষ বলে ক্যারিবীয় অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে বোল্ড করেন তিনি। ছয় বল খেলে কোনো রান না করেই ফিরে যান ব্র্যাথওয়েট।

এরপর ষষ্ঠ ওভারে কাইরান পাওয়েলকে বোল্ড করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৫ বল খেলে তিনি করেন চার রান। নবম ওভারে সুনিল আমব্রিসের স্ট্যাম্প ভাঙেন সাকিব। দশম ওভারে রস্টন চেজকে বোল্ড করেন মিরাজ। এক বল খেলে কোনো রান না করেই ফিরে যান চেজ। ১২তম ওভারে শাই হোপকেও বোল্ড করেন মিরাজ। দিন শেষে শিমরন হেটমায়ার ৩২ রান করে ও শেন ডাউরিচ ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।

টেস্টে গত ১২৮ বছরে এই প্রথমবারের মতো প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান বোল্ড হওয়ার ঘটনা ঘটল। আর টেস্ট ইতিহাসে এটি তৃতীয় ঘটনা। অন্যদিকে, টেস্টে স্পিনে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান বোল্ড হওয়ার ঘটনা এই প্রথম।

এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৫০৮ রানে। দলের পক্ষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৩৬, সাকিব আল হাসান ৮০, সাদমান ইসলাম ৭৬ ও লিটন দাস ৫৪ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে কেমার রোচ ২টি, শেরমন লুইস ১টি, রস্টন চেজ ১টি, জোমেল ওয়ারিকান ২টি, দেবেন্দ্র বিশু ২টি ও ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সেরা ইনিংস। ২০১২ সালে করা ৫৫৬ রানের ইনিংসটি সেরা অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ৫০৮ রানের এই ইনিংসটি টেস্টে বাংলাদেশের সপ্তম সেরা ইনিংস।

গতকাল (শুক্রবার) মিরপুরে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচ। শুক্রবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পাঁচ উইকেটে ২৫৯ রান সংগ্রহ করে দিনের খেলা শেষ করেছিল স্বাগতিকরা। সাকিব আল হাসান ৫৫ রান করে ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৩১ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

শনিবার সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৩০১ রানে কেমার রোচের বলে শাই হোপের হাতে ক্যাচ হন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ১৩৯ বলে ৮০ রান করেন তিনি। এই রান করার পথে তিনি ছয়টি চার মারেন। টেস্টে এটি তার ২৪তম অর্ধশত। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে রিয়াদের সঙ্গে ১১১ রানের পার্টনারশিপ গড়েন সাকিব।

এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে জুটি বাঁধেন লিটন দাস। দারুণ খেলতে থাকেন দুজন। রিয়াদ একটু ধীরে এগোলেও ওয়ানডে স্টাইলে খেলতে থাকেন লিটন। ৫০ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। প্রথম সেশনে ৫৩ রানে অপরাজিত থেকে লাঞ্চ বিরতিতে যান লিটন।

লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন দাস। ব্যক্তিগত ৫৪ রানে ফিরে যান সাজঘরে। ইনিংসের ১১৯তম ওভারে স্পিনার ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন লিটন। ৫৪ রান করার পথে তিনি বল খেলেন ৬২টি, চার মারেন আটটি, ছক্কা হাঁকান একটি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি। সপ্তম উইকেট জুটিতে রিয়াদের সঙ্গে ৯২ রানের জুটি গড়েন লিটন। দলীয় ৪১৬ রানে জোমেল ওয়ারিকানের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন মেহেদী হাসান মিরাজ।

দ্বিতীয় সেশনে সেঞ্চুরির দেখা পান রিয়াদ। টেস্টে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। গত মাসে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন রিয়াদ। ওই ম্যাচে ১০১ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি হ্যামিলটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন রিয়াদ। সেই ম্যাচে ১১৫ রান করেছিলেন তিনি। ওয়ানডেতেও রিয়াদের তিনটি সেঞ্চুরি রয়েছে।

তৃতীয় সেশনের শুরুতেই ফিরে যান তাইজুল ইসলাম। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ফেরার আগে তাইজুল করেন ২৬ রান। এরপর দশম উইকেট জুটিতে ৩৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন রিয়াদ ও নাঈম। দলীয় ৫০৮ রানে জোমেল ওয়ারিকারেন বলে বোল্ড হন রিয়াদ। ২৪২ বলে ১৩৬ রান করেন তিনি।