রিয়াদের সেঞ্চুরির পর ইনিংস ঘোষণা, টার্গেট ৪৪৩

ক্রীড়া ডেস্ক : জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার ব্যাটে ভর করে প্রতিপক্ষের সামনে ৪৪২ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে টাইগাররা।

প্রথম ইনিংসে ২১৮ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতেই টাইগারদের লিড বেড়ে হয়েছে ৪৪২ রান। জিততে হলে জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ৪৪৩ রান।

এর আগে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত ১০১ রান করেন। এছাড়া মোহাম্মদ মিথুন ৬৭ ও মেহেদি হাসান মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ২৭ রানে।

বুধবার (১৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হয়। জিম্বাবুয়েকে ফলো অন না পাঠিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে ২১৮ রানের বড় লিড পাওয়া বাংলাদেশ, বড় লক্ষ্য দেওয়ার আশায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামলেও বিধিবাম। নেমেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা।

দলীয় স্কোরবোর্ডে ২৫ রান যোগ হতেই নেই চার উইকেট। ইমরুল কায়েস ৩, লিটন দাস ৬, মুমিনুল হক ১ ও মুশফিকুর রহিম ৭ রানে সাজঘরে ফিরে যান। সেখান থেকে মোহাম্মদ মিথুন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের প্রতিরোধ।

পরিস্থিতি বুঝেশুনে খেলেন তারা। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে দারুণ মেলবন্ধন। ছোটান রানের ফোয়ারা। তাতে বাড়তে থাকে লিড। তবে হঠাৎ খেই হারান মিথুন। রান তোলার তাড়নায় সিকান্দার রাজাকে তুলে মারতে গিয়ে ফেরেন তিনি।

ফেরার আগে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটি তুলে নেন মিথুন। ১১০ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৬৭ রান করেন তিনি। এতে অভিষেকেই ফিফটি করার কীর্তি গড়েন এ মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। এরপর দ্রুত রান বাড়িয়ে নিতে এসেছিলেন আরিফুল হক। তবে তিনি পারেননি, সাজঘরের পথ ধরেন শন উইলিয়ামসের বলে বোল্ড হয়ে।

একে একে টপঅর্ডারের সবাই ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে থেকে যান মাহমুদউল্লাহ। পরে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। তাকে যোগ্য সহযোদ্ধার সমর্থন দেন মিরাজও। ফলে রানের চাকা ঘোরে দ্রুতগতিতে। একপর্যায়ে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূরণ করেন মাহমুদউল্লাহ। প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

এর আগে, সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৫২২ রান করে বাংলাদেশ। এরপর ব্যাটে নামা জিম্বাবুয়ের ফলোঅন এড়াতে করতে হতো ৩২২ রান। কিন্তু ৩০৪ রানে থামে তাদের ইনিংস। ফলে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েকে ফলো অনে পাঠানোর সুযোগ পায়।

উল্লেখ্য, সফরকারীদের বিপক্ষে দ্বিতীয় এই টেস্ট ম্যাচটি বাংলাদেশের দেশের জন্য মান বাঁচানোর লড়াই। কেননা স্বাগতিকরা সিলেটে সিরিজের প্রথম টেস্টে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় রানের ব্যবধানে হেরেছে। সিরিজ বাঁচাতে তাই দ্বিতীয় টেস্টে জিততেই হবে স্টিভ রোডসের শিষ্যদের।