রিজিকের মালিক আল্লাহ : ক্ষতিগ্রস্ত লবণশ্রমিকদের ভূমিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কর্ণফুলী নদীতীরে উচ্ছেদ অভিযানের কাজ পরিদর্শনে গেলে সাংবাদিকদের প্রশ্ন-উত্তর পর্ব শেষ হতেই গাড়ির দিকে পা বাড়ান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এ সময় উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় অর্ধশতাধিক লবণশ্রমিক ও মিল মালিক ঘিরে ধরেন তাকে।

শ্রমিকরা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে মন্ত্রীর কাছে সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানান। লবণশ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুল মতিন মাস্টার মন্ত্রীকে জানান, উচ্ছেদের কারণে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে গেছে। মালিকদের ক্ষতিও অনেক।

এ সময় মন্ত্রী তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে উত্তরে বলেন, ‘রিজিকের মালিক আল্লাহ। তিনিই আপনাদের রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। এর আগে যখন দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী ব্রিজ হয় তখন বলা হয়েছিল হাজার হাজার মাঝি বেকার হয়ে যাবে। কিন্তু তারা কি এখন না খেয়ে আছে?’

মন্ত্রীর এ কথার পরও লবণশ্রমিকরা বারবার তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে আহ্বান জানাতে থাকেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আগে উচ্ছেদ অভিযান শেষ হতে দেন। আপনাদের সঙ্গে বসব।’

এর আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে কর্ণফুলী নদীতীরে উচ্ছেদ অভিযানে উদ্ধার বিশাল এলাকাজুড়ে পন্টুন জেটি ও দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান ভূমিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী বাঁচলে চট্টগ্রাম বাঁচবে। আগে এই জায়গাগুলো বেদখল ছিল। এখন আমরা দখলে নিয়েছি। প্রথম কাজ হলো বেদখল হয়ে যাওয়া জমিগুলো উদ্ধার করা। এরপর একটু সময় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। এখানে দৃষ্টিনন্দন কিছু কাজ করা হবে। মানুষের বিনোদনের জন্য কিছু করা হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে উদ্ধার হওয়া জায়গা যেন আবার বেদখল হয়ে না যায়।’

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘নদীতীরে বিনোদন কেন্দ্র হলেও তীর নিয়ে আমাদের ভিন্ন পরিকল্পনা আছে। এখানে পন্টুন-জেটি টাইপের কিছু করার কথা ভাবা হচ্ছে। কারণ বন্দরের ধীরগতির লোড-আন লোডিংয়ে আমাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়। যার পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন। জাহাজগুলোকে দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়। প্রচুর রিজার্ভ নষ্ট হয়। তবে পন্টুনগুলো আমরা করব না। পোর্ট বা বিআইডব্লিউটিএকে দেয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নগরীর সদরঘাট থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। আজ শনিবার বারিক বিল্ডিং এলাকায় গিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শেষ হয়। এ অভিযানে ২৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি খালও উদ্ধার করা হয়েছে। ছয় দিনের উচ্ছেদ অভিযানে বেদখলে থাকা প্রায় ১০ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়।