রিজভীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আর্জি ফিরিয়ে দিল হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারক আখতারুজ্জামানকে নিয়ে দেয়া বক্তব্যের জন্য বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে আর্জি জানিয়েছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তবে বিচারপতি সে আবেদন রাখেননি। বলেন, ‘সংবাদপত্রে কত কিছু ছাপা হয়, এগুলো পড়ে বিচার করা যায় না।

রবিবার হাইকোর্টে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে রিজভীর বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচার আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং তার ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন। সেদিনই খালেদা জিয়াকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, ‘এই বিচারক (আখতারুজ্জামান) শিক্ষা ও পেশার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ ও জনগণের সাজা থেকে এরা রেহাই পাবে না।’

‘ন্যায় বিচারকে পদদলিত করে বিচারক ড. আখতারুজ্জামান যে কুৎসিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেজন্য তিনি ইতিহাসে কলঙ্কিত ব্যক্তি হয়ে থাকবেন।’

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনার জামানায় ইনসাফ যে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে তা এই ড. আখতারুজ্জামানদের কারণে। বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জুডিসিয়াল ফ্রড (Judicial Fraud) করেছেন।’

রিজভীর এই বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘রিজভী বলেছেন বিচারক আখতারুজ্জামানকে রেহাই দেবেন না। তাই এজন্য রিজভীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আদালতের কাছে আদেশ চাচ্ছি।’

তবে আদালত বলে, ‘তা কেন করব? পত্রিকায় কত কিছু লেখা হয়। তা দেখে আদালত চালালে হবে না।’

‘আমরা তো দেখি যার পক্ষে রায় যায় তিনি বলেন ঐতিহাসিক রায়। আর যার বিপক্ষে যায় তিনি বলেন রায় ফরমায়েশি। রাজনীতিবিদরা তো বলে থাকেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। আইনজীবী আর রাজনীতিবিদদের একই অবস্থা।’

পরে অবশ্য অ্যাটর্নি জেনারেল এই বিষয়টি নিয়ে আর কিছু বলেননি। আর দুই বিচারপতিও এই বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।

Inline
Inline