রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ হযরত আলী

আশিকুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকে : শ্রীপুর চৌরাস্তা থেকে বেখেয়ালি ভাবে খুব ব্যস্ততার মধ্যে এক অটো রিকশায় উঠে শুধু বললাম রেলগেইট যান। পথিমধ্যে থানার মোড় কাজ থাকার কারনে রিকশাটি থামতে বললাম। রিকশা থেকে নেমে ভাড়া দেয়ার সময় ওনাকে চোখে পড়লো। প্রচন্ড শীতে কাঁপছিলেন দেখে খুব কষ্ট লাগলো এবং ওনার সাথে কিছু আলাপ হল। ওনার নাম হযরত আলী। বয়স ৮০। বয়স্ক রিকশাচালক হযরত আলীর পাশে নেই তার ছেলে সন্তানেরা । দীর্ঘদিন ধরে হযরত আলী রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তবু হার মানেননি শারীরিক অক্ষমতার কাছে। তিন ছেলে ও চার মেয়ের বাবা হযরত আলীর সব ছেলেরা উপার্জন সক্ষম, কিন্তু তার খোঁজ খবর নেননা কেউ, তাই নিজেই রিকশা চালান তিনি। হার মানেননি হযরত আলী ।
হযরত আলীর কষ্টের কাহিনী জেনে ব্যথিত হয়েছেন প্রায় সকলে হযরত আলীর গ্রামের বাড়ি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে।
শ্রীপুর পৌরসভার বাসিন্দা হযরত আলী শহরের অলিগলিতে রিকশা চালান। কাকডাকা ভোরে বের হয়ে ঘরে ফেরেন রাতে। সারাদিনে আয় করেন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। আবার কোনো কোনো দিন শরীর খারাপ থাকলে সারাদিন শুয়ে-বসেই পার করেন। ইচ্ছা থাকলেও প্রায় সময় রিকশা পান না তিনি। কারণ, তার শরীর প্রায় সময়ই অসুস্হ থাকে । রিকশা চালানোর সময় তার পুরো শরীর কাঁপতে থাকে। এই শরীর নিয়ে কেন রিকশা চালান? প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, ‘ভিক্ষা করা পাপ। তাই রিকশা চালাই।’
এত কষ্টের ভিড়েও হযরত আলী শান্তি খোঁজেন তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের মাঝে। আর স্বপ্ন দেখেন ছোট মেয়ে বিবি সুরাইয়া এমএ পাস করবে। মেয়ে বিবি সুরাইয়া বর্তমানে বাবার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে শ্রীপুর উপজেলার মাস্টারবাড়ি মামার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছে। বিদ্যালয়ের অস্টম শ্রেণিতে পড়ে সে। সপ্তম শ্রেণীতে তার ফল ছিল জিপিএ-৫ । হযরত আলী রিক্সা চালালেও তার স্ত্রী রোকেয়া ঘর সংসার নিয়েই সুখে শান্তিতে বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে সংসারের খরচ বাঁচানোর চেস্টা করেন ।
হযরত আলীর মেয়ে বিবি সুরাইয়া জানায়, বাবার আয়ের টাকা দিয়েই লেখাপড়া করছে সে। মামার বাড়িতে থাকা-খাওয়া ও কোচিং খরচ বাবদ প্রতি মাসে হযরত আলী চার হাজার টাকা পাঠান।
এ ছাড়া তিনি তার মেয়ের লেখাপড়া বাবদ দুই হাজার টাকা দেন। আর ঘর ভাড়া ও খাওয়ার খরচ জোগান দেন তার স্ত্রী রোকেয়া।
৮০ বছরের বৃদ্ধ হযরত আলী শারীরিক ভাবে দুর্বল হলেও রিকশা চালাতে হযরত আলীর দুঃখ নেই। তবে বয়সে প্রায় সকলের প্রবীন হওয়ায় যাত্রীরা তার রিকশায় চড়তে চান না। তাই পুঁজি হলে মুদি দোকান দেয়ার ইচ্ছা আছে তার।