রায় শুনতে ট্রাইব্যুনালে বাবর-পিন্টুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার ৩১ আসামিকে আদালতে নেয়া হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকের ডান পাশের একটি লাল রঙয়ের ভবনে স্থাপিত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ আনা হয় তাদের। কিছুক্ষণ পর রায় ঘোষণার কার্যক্রম শুরু হবে।

এর আগে সকাল সাতটার দিকে এই ৩১ আসামিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে বাড়তি নিরাপত্তা দিয়ে কাশিমপুরের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকায় আনা হয়। এরপর সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাদের নেয়া হয় পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় অস্থায়ী আদালতের গারদে। আসামিদের মধ্যে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু রয়েছেন।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের মধ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ১ ও ২ থেকে ১৪ জনকে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টু রয়েছেন। আর কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে আনা হয়েছে ১৭ আসামিকে।

এ মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। এর মধ্যে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে। এদের সিংহভাগেরই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। বাকি তিন আসামির ফাঁসি হয়েছে অন্য মামলায়।

যে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে রায় আসবে তার মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদসহ ১৮ জন পলাতক।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ১ ও ২-এ থাকা আসামিদের মধ্যে বাবার ও পিন্টু ছাড়াও রয়েছেন হুজি নেতা আরিফ হাসান সুমন ও মওলানা আব্দুর রউফ, পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হক, অতিরিক্ত আইজি খোদা বক্স, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমীন, এএসপি আব্দুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমান, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা আরিফুর রহমান আরিফ, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিম। আর হাইসিকিউরিটি কারাগারে থাকা ১৭ আসামিই হুজি নেতা।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি (প্রয়াত) জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৩ জন নিহত হন ও তিন শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। এ ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার অধিকতর তদন্ত শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই বছর তদন্তের পর ২০১১ সালের ৩ জুলাই ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

সম্পূরক অভিযোগপত্রে যে ৩০ জনকে আসামি করা হয় তাদের মধ্যে আছেন তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, ডিজিএফআইয়ের মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক, খোদা বকস, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক।