রাস্তা আটকে সমাবেশ হলে পুলিশ বাধা দেবেই: কাদের

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : বিএনপির কর্মসূচিতে বাধার বিষয়ে দলটির নেতাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাস্তা বন্ধ করে কর্মসূচি পালন বেআইনি। আর সেটা করলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করবেই।

শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ সফরে যাওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গত মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যথাক্রমে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। এর মধ্যে দ্বিতীয় কর্মসূচি থেকে ছাত্রদলের এক নেতাকে আটকের পর কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।

বিএনপি অভিযোগ করছে, সরকার তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দিচ্ছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘বৃহস্পতিবারের যে ঘটনা ঘটেছে এ ঘটনার জন্য তারাই দায়ী। প্রেসক্লাবের সামনে যে রাস্তা, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রাস্তাটা বন্ধ করে কেউ যদি সমাবেশ করে, সেই অবস্থায় পুলিশ হস্তক্ষেপ করবেই। কারণ রাস্তা বন্ধ করে সভা সমাবেশ করা বেআইনি।’

বিএনপির কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মিজানুর রহমান রাজকে আটকের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাদের যে নেতাকর্মীরা মামলার আসামি তারা এমনিতে পালিয়ে পালিয়ে থাকে। তবে সভা সমাবেশে আসে। মামলার আসামিকে পুলিশ যদি সামনে পায় তো তাকে ছেড়ে দেবে? পুলিশ ছেড়ে দেবে কীভাবে যাদের তারা খুঁজছে?’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সমাবেশ তো রাস্তায় হয়নি, আমরা তো একটা ময়দানে করেছি। আওয়ামী লীগ তো রাস্তা বন্ধ করে সভা সমাবেশ করে না। সেখানে বৈষম্যের কিছুই নেই।’

বিএনপিকে ১২ মার্চের সভার অনুমতি দেয়া হবে কি না-জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সেটা পুলিশ জানে। এর আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তারা সভা করেনি? করেছে। এবারও পুলিশের কাছে তারা আবেদন করেছে, পুলিশই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক। এখানে দলীয়ভাবে আমাদের কোনো হস্তক্ষেপ আছে, এটা মনে করা ঠিক হবে না।’

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রচারে নামায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমার সুযোগ নষ্ট হচ্ছে কি না-কাদেরের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড যেটা বিএনপি বলেছে এটা তো সিডিউল ঘোষণার পর। সিডিউল ঘোষণার আগে তো লেভেল প্লেইং ফিল্ড এর জন্য নির্বাচন কমিশনারের কোনো করণীয় নেই।’

‘যখন শিডিউল হবে তখন নির্বাচনী যে আচরণবিধি সেই আচরণবিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না সেটা দেখা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশনের যে আচরণবিধি সেই আচরণ বিধি মেনেই তখন সব দলকে নির্বাচনের কর্মকাণ্ড চালাতে হবে।’

সড়কমন্ত্রী কাদের নারায়ণগঞ্জ যান ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করতে। তিনি বলেন, সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে শাস্তি পেতে হবে।

‘আমি নির্দেশ দিচ্ছি বর্ষা আসার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো সংস্কারের কাজ শেষ করতে হবে। চলমান কাজগুলো যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে রাখতে হবে।’

‘কোথাও কাজের মান খারাপ হলে সেখানে ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট সকলকেই জবাবদিহিতা করতে হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার আর খারাপ কাজ হলে শাস্তিভোগ করতে হবে।’

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুট ৮ কিলোমিটার রাস্তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যদিও বাস্তবায়ন কাল ছয় মাস ধরা হয়েছে, তবে সেটা এপ্রিলের মধ্যে বর্ষার আগে কাজ শেষ করতে চাই।