রাষ্ট্রীয় আনুগত্যে মিলে স্রষ্টার কৃপা

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক জীবনের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কেও ইসলাম সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। ভালো নাগরিক হতে না পারলে ভালো মুসলমানও হওয়া সম্ভব নয়। যুগে যুগে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা আদর্শ নাগরিক হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। যিনি আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য পোষণ করেন, রাষ্ট্রের প্রতিও তার আনুগত্য থাকতে হবে। রাষ্ট্রদ্রোহী কারো পক্ষে স্রষ্টার কৃপা পাওয়া অসম্ভব। রাষ্ট্রীয় আনুগত্যের মধ্য দিয়েই স্রষ্টার সন্ধান পাওয়া যায়।

আমাদের প্রিয়নবী (সা.) ছিলেন একজন আদর্শ নাগরিক। নাগরিক হিসেবে তিনি দেশ ও জাতির প্রতি যে আনুগত্য, ভালোবাসা, সহমর্মিতাবোধ দেখিয়েছেন তা চিরদিন বিশ্বাসীদের জন্য আলোকদিশার কাজ করবে। যে দেশ থেকে তিনি অন্যায়ভাবে বিতাড়িত হয়েছেন, যাদের থেকে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ পেয়েছেন, সে দেশ ও মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। তার প্রতি উৎসর্গিত সাহাবায়ে কেরামের অবস্থাও ছিল তাই। তারাও দেশ-জাতির জন্য ছিলেন পুরোপুরি নিবেদিত।

ইসলামের দৃষ্টিতে একজন আদর্শ নাগরিক রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ। নাগরিকের অব্যাহত প্রচেষ্টা থাকবে দেশ ও জাতির কীভাবে উন্নতি করা যায়। নিজের সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়ে হলেও দেশের জন্য, নিজের জাতির জন্য কিছু করার মানসিকতা থাকতে হবে। রাষ্ট্র তার নাগরিকের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি ভাববে, কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ভাবনা থাকবে কীভাবে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। যে দেশের নাগরিক যত সভ্য ও সুশীল, সে দেশ তত উন্নত ও অগ্রসর। নাগরিকের দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। নাগরিকের দায়িত্বহীনতা ও অনগ্রসরতা যে কোনো দেশকে পিছিয়ে দেয়। চেতনাসমৃদ্ধ ও বলিষ্ঠ না হলে দেশ ও জাতির জন্য কিছু তো করা যায়ই না; বরং এমন নাগরিক দেশের জন্য বোঝা।

যে কোনো জাতির পরিচয় নির্ণীত হয় তাদের আচার-আচরণে। দেশকে যারা পৃথিবীর বুকে মহীয়ান করতে চায়, তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের উপস্থিতি অপরিহার্য আর দেশপ্রেম কথায় নয়, আচরণে ফুটিয়ে তুলতে হয়। কারো ভেতরে দেশপ্রেম থাকলে সেটা তার আচরণেই ফুটে ওঠে। এ জন্য আচরণ ও কর্মের মাধ্যমেই দেশপ্রেমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় আদর্শ নাগরিককে। ইসলাম সে শিক্ষাই দেয়।