রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পর্যবেক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের বৈঠকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও এর পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।বুধবার রাতে বঙ্গভবনের ওই বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে এসব কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৈঠকে দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়।এর আগে রাত সাড়ে সাতটার দিকে বঙ্গভবনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগে বঙ্গভবনে যান ওবায়দুল কাদের ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর প্রধানমন্ত্রীর পর সেখানে যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বৈঠক শেষে রাত ১০টার পর তারা বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে আসেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ষোড়শ সংশোধনী রায় ও এর পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে, আলোচনা চলবে। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু জানানো যাবে না।’মন্ত্রী আরও জানান, বৈঠকে দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হযেছে।আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের অদূরে মঙ্গলবারের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে জানান প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন বলে জানান তিনি।রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাতের খবর নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমকে জানান, রাষ্ট্রপতি বন্যায় মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের বন্যাপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে দলীয় একটি সূত্র জানায়, মূলত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও এর পর্যবেক্ষণ নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলতেই বঙ্গভবনে যান প্রধানমন্ত্রী।এর আগে গত সোমবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে ওবায়দুল কাদের ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে দলের অবস্থান জানিয়ে আসেন।তারও আগে শনিবার রাতে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে গিয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের।ওবায়দুল কাদেরের এ দৌড়ঝাঁপের কারণ হিসেবে সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে যেসব বিষয় আওয়ামী লীগ আপত্তিকর মনে করে তা আদালতের মাধ্যমে এক্সপাঞ্চ করানোর বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে বার্তা দেয়া হচ্ছে।গত ১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে কিছু ক্ষেত্রে সংসদ ও বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছে ক্ষমতাসীন দলটি।
এ নিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা কঠোর সমালোচনা করছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার।