রাশেদদের মুক্তি চেয়ে রাতে রোকেয়া হলে বিক্ষোভ

ঢাবি প্রতিনিধি : কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের দুই নেতার মুক্তির দাবিতে রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের ছাত্রীরা।

বুধবার রাত দশটার দিকে দিকে হলের ভেতর এই মিছিল করে মেয়েরা। তারা রিমান্ডে নেয়া রাশেদ খাঁনকে নিরপরাধ দাবি করেন।

গত ২৭ জুন এক ভিডিও বার্তায় রাশেদ খান বলেন তার রক্ত গরম হয়ে গেছে। তিনি আবার আন্দোলনে নামতে ছাত্রদের প্রতি আহ্বান জানান।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দেন কোনো কোটা থাকবে না। ২৭ জুন তিনি একই ঘোষণা দেন। তবে বলেন, এতদিন ধরে চলে আসা পদ্ধতিটি বাতিলে কিছু সময় লাগবে।

তবে সেই রাতে রাশেদ ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আবার সেই বার্তায় তিনি বলেন, ‘মনে হয় তার বাপের দেশ।’

এই কটূক্তি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছে অভিযোগ করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন এক ছাত্রলীগ নেতা আর ১ জুলাই রাশেদকে মিরপুরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দারা।
আবার রাশেদ তার বক্তব্যে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাদের পাঠানো রেমিটেন্স সরকার ভিন্ন খাতে ব্যবহার করছে।

কোটা আন্দোলনের নেতাকে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত কর্মকর্তা তার এই বক্তব্যের পেছনে কী উদ্দেশ্য আছে, তা জানতে তাকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। আর বিচারক তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দেন ২ জুলাই।

এর আগে ৩০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটা আন্দোলনের বেশ কয়েকজন নেতাকে বেদম পিটুনি দেয়া হয়। এর প্রতিবাদ করতে গেলে ২ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পেটানো হয় আরও কয়েকজনকে। সেখান থেকে পিটিয়ে কোটা আন্দোলনের নেতা ফারুক হাসানকে পুলিশে দেয়া হয়। আর পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগে করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রোকেয়া হলের মেয়েরা বলছেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে তাদের দাবি যৌক্তিক। আর এ জন্য ‘নিরপরাধ’ ছাত্রকে কেন রিমান্ডে নেওয়া হবে। কেন আন্দোলনকারীদের উপর হামলা হবে।

যাদেরকে জেলে নেওয়া হয়েছে তাদেরকে অবিলম্বে মুক্ত করে দেয়ার দাবির পাশাপাশি হামলাকারীদের বিচারও দাবি করেন ছাত্রীরা।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া একজন ছাত্রী বলেন, ‘সবাই কেন এখনও চুপ করে আছে? আর কতকাল এভাবে বাঁচব আমরা?’