রাম রহিমের ডেরায় নিজস্ব মুদ্রা ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের ডেরা সাচ্চা সৌদায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে নিরপত্তা বাহিনীর হাতে এসেছে বেশ কিছু প্লাস্টিকের মুদ্রা। অর্থাৎ রাম রহিমের ছিল নিজস্ব মুদ্রা ব্যবস্থাও।

দেখতে অবিকল খেলনার মতো। কিন্তু ছেলেখেলা নয় একেবারেই! ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের হাত যে রাম রহিম সিংয়ের সিরসার সাম্রাজ্য পর্যন্ত পৌঁছয়নি, তা আবার প্রমাণ হয়ে গেল হাতেনাতে। বাতিল নোট জমা করার তাড়া নেই, নতুন নোটও কেমন যেন ফেলে-ছড়িয়ে রাখা। মূল্যবান যেন শুধু ওই প্লাস্টিকের কয়েনগুলোই! যা ডেরা প্রধানের একান্ত নিজস্ব, সমান্তরাল এক মুদ্রা ব্যবস্থা।

ডেরার সদর দপ্তর থেকে শুরু হওয়া পুরোদস্তুর তল্লাশি অভিযান চালাতে গিয়ে নীল এবং কমলা এমনই কিছু মুদ্রা হাতে এসেছে পুলিশের। বাইরে যার মূল্য নেই। কিন্তু পুলিশের দাবি, ৭০০ একরের আশ্রমে এসবেই দিব্যি চলত বেচাকেনা। এক রুপির কয়েনের রং নীল, ১০ রুপিরটি কমলা। দুইটিতেই খোদাই করে লেখা ‘ধন ধন সতগুরু তেরা হি আসারা, ডেরা সাচ্চা সৌদা সিরসা।’

জোড়া ধর্ষণ কাণ্ডে গুরমিত জেলে যাওয়ার পরে পুলিশের সঙ্গে বার কয়েক ডেরার সদর দপ্তরে ঢুকেছে সংবাদমাধ্যম। ‘নকল’ আইফেল টাওয়ার থেকে শুরু করে তাজমহল, ডিজনিল্যান্ড, ঝাঁ চকচকে সাততারা হোটেল, মাল্টিপ্লেক্স, কৃষিজমি দেখে চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল পুলিশের। গুরমিতের নিজস্ব মুদ্রা ব্যবস্থার কথা আগেও শোনা গিয়েছিল।

কয়েকজন ভক্ত বলেন, আশ্রমের ভেতরের দোকানপাটে বৈধ নোট দিয়ে কেনাবেচা করতে গেলেও ফেরত পয়সা হিসেবে দেওয়া হতো প্লাস্টিকের ওই কয়েন।

এবার সেই নকল মুদ্রা হাতে নিয়ে বিস্ময় আরও বাড়ল পুলিশের।