রামুতে সালিশে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন

রামু (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রমিজ আহমদ দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। রবিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে উত্তর মিঠাছড়ি আশকরখীল কালুর দোকান স্টেশন এলাকায় সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রমিজ আব্দুল জোয়ারিয়ানলা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি ১ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা সুলতান আাহমদের ছেলে।

নিহতের ছোট ভাই ডা. ছাবের আহদ জানান, সন্ধ্যায় একই ইউনিয়নের আশকরখীল কালুর দোকান স্টেশনে সালিশ বৈঠক করতে যান রমিজ। এ সময় স্থানীয় মুবিন, ইউনুচ, আব্বাস ও মিজনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার উপর হামলা চালায়। ওই সময় তার ভাইকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক রমিজকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইউপি সদস্য আবদুস ছালাম কালু ও স্থানীয়দের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যায় কালুর দোকান স্টেশনে ইটভাটা মালিক আবদুল্লাহ কোম্পানির সঙ্গে ও দিল মোহাম্মদ নামের এক ইটভাটার মাঝির আর্থিক বিরোধ নিরসনে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এতে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রমিজ।

সালিশ শুরুর আগে উত্তর মিঠাছড়ি উত্তরপাড়া এলাকার নজির আহমদের ছেলে মুবিন ছুরি দিয়ে রমিজকে আঘাত করে। এতে উপস্থিত জনতার মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে কেউ বাধা দেয়ার সাহস পাননি। পরে দুর্বৃত্তরা রমিজের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। রামু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ছানাউল্লাহ জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে।

রামু উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তপন মালিক জানান, রমিজ জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি ছিলেন দলের জন্য নিবেদিন প্রাণ। আমরা তার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) এস এম মিজানুর রহমান স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার খুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।