রাবিতে দলীয় কর্মীকে পেটালো ছাত্রলীগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের সভাপতির উপস্থিতিতে দলীয় কর্মীকে মারধর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতা। রবিবার রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের পলাশ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ফারুক হাসান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক। ভুক্তভোগী মুমিনুর রহমান তাজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতিকুর রহমান সুমনের অনুসারী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাতে চারুকলা অনুষদের পলাশ চত্বরে নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতির কাজ করছিলেন তাজ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জুর নেতৃত্বে ৭-৮ জন নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। পরে সভাপতির সামনেই তাজকে চড়-থাপ্পর, কিল-ঘুষি মারেন ছাত্রলীগ নেতা ফারুক।

তাজ বলেন, ‘সভাপতি আমার কাছে আসলে আমি তার সঙ্গে হাত মেলাতে যাই। এসময় ফারুক হঠাৎ আমাকে চড়-থাপ্পর মারতে থাকে। আতিক ভাই কোথায় আছে তারা আমার কাছ থেকে তার অবস্থান জানতে চায়।’

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান বলেন, ‘শনিবার রাতে আমাকে আটক করে মারধরের হুমকি দিয়েছিলেন সভাপতি রাঞ্জু। এ সময় পুলিশকে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। তার হুমকিতে সেদিন বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছিলাম। সভাপতির প্রতিহিংসার কারণে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারছি না। তিনি সভাপতি হয়ে আমার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করতে পারেন না। তাজ আমার অনুসারী হওয়ায় এবং ফেসবুকে আমার পোস্ট শেয়ার ও পোস্টে কমেন্ট করায় তাকে মারধর করা হয়েছে’।

মারধরে বিষয়টি স্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক বলেন, ‘সে ফেসবুকে উল্টাপাল্টা কমেন্ট করছিল, তাই তাকে শাসন করেছি। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে দলীয় কারণে তাকে শাসন করা হয়েছে’।

নিজের উপস্থিতিতে দলীয় কর্মীকে মারধরে বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু। তিনি বলেন, ফেসবুকে বিভিন্ন ভূয়া আইডি খুলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে আতিকুর। এ জন্য তাকে সাবধান করে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তাজ আতিককে সহযোগিতা করছে, তাই তাকে চড়-থাপ্পর মারা হয়েছে।