রাতের আঁধারে শিব মন্দিরে দুর্বৃত্তের আগুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে রাতের আঁধারে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিব মন্দিরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ নিয়ে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের শ্রীনারায়নপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘরটি খালি থাকায় তেমন ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত নাশকতা বলে অভিহিত করেছেন শ্রীনারায়নপুর গ্রামবাসী।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শ্রীনারায়নপুর গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত দেবোত্তর সম্পত্তিতে মন্দিরটির অবস্থান। একপাশে মহাদেব গাছ, অদূরেই শ্মশান, মাঝে নাথ মন্দির ও অন্যপাশে কিছুটা উঁচু স্থানে রয়েছে শিব মন্দির। ঘরের ভিতরে পাওয়া যায় কেরোসিনের বোতল। কেরোসিন ছিটিয়ে মেঝেতে খড় দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেড়া, চালা ও মেঝেতে আগুনের ছোপ ছোপ দাগ।

এব্যাপারে শিব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সচী দাস জানান, পূজানুষ্ঠানের সময়ে ঘরটিতে শিব মুর্তি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে ঘরটি খালি অবস্থায় আছে। গত (শুক্রবার) রাতের কোন এক সময়ে কে বা কারা ঘরটিতে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দ্বীজেন দাস বলেন, মন্দিরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় শুধু শ্রীনারায়নপুর গ্রামবাসী নয় এই এলাকার সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ মর্মাহত।

শ্রীনারায়নপুর গ্রামের রাসেন্দ্র দাস, রানু দাস, শ্রীকান্ত দাস, অরবিন্দু দাসসহ অনেক গ্রামবাসী বলেন, শিব মন্দিরের ভূমি পার্শ্ববর্তী হলিমপুর গ্রামের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বেদখলের চেষ্টা করে আসছে। গত ৩/৪ দিন যাবত হলিমপুর গ্রামের নাছির, রেজ্জাক, শারজুল, জামালসহ তাদের লোকজন মন্দিরের ভূমি হতে জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা নিষেধ দিলেও শুনেনি। বাধ্য হয়ে আমরা দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দেই। পুলিশ এসে তাদের মাটি কাটা বন্ধ করতে বলে। পুলিশ যাবার পরপরই আবার মাটি কাটা শুরু করে। আমাদের হুমকি ধমকি দিয়ে বলে, বাড়াবাড়ি করলে গ্রাম থেকে আমাদের বিতাড়িত করবে।

তারা আরো বলেন, আমরা নিরীহ শান্তিপ্রিয় মানুষ। আমাদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে মন্দিরে আগুন দেওয়া হয়েছে।

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) এ বি এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে তৎক্ষণাৎ ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।