রাজাপুর-কাঠালিয়া আসনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ফাতিনাজ ফিরোজ

রহিম রেজা, ঝালকাঠি সংবাদদাতা : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন একমাত্র নারী শিক্ষাবিদ ফাতিনাজ ফিরোজ। ইতোমধ্যেই তিনি বেশ শক্ত ভাবেই মাঠে নেমে সরকার ও নিজের প্রচারনা চালিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন রাজাপুর ও কাঠালিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝে। চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের গণসংযোগের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিগত দিনের উন্নয়নেরও।

তাঁর বাবা সায়িদুর রহমান ছিলেন তৎকালিন পাকিস্তানের উপ-হাইকমিশন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা। ১৯৬৩ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের একজন কর্মকর্তা হিসেবেও নয়া দিল্লিতে কর্মরত ছিলেন। আর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ভারতের কোলকাতাস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনে অফিসার পদে নিযুক্ত ছিলেন। দায়িত্ব পালন করছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। বর্তমানে ফাতিনাজ ফিরোজ স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষাবিদ এবং রাজাপুরের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দু:সময়ের কান্ডারী মরহুম ড. হান্নান ফিরোজের স্ত্রী। বর্তমানে ফাতিনাজ স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান।

বাবার চাকরি জীবনের কারণে কোলকাতার আওয়ার লেডি কুইন অফ দ্যা মিশনস কনভেন্ট বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের লেখা পড়া শুরু করেন। ১৯৭৪ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন ঢাকার বিএএফ শাহিন কলেজ থেকে। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন কুমিল্লা মহিলা কলেজ থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্মান অর্জন করেন। এছাড়াও পড়াশোনা ও বিভিন্ন অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী হিসেবে একেবারেই নতুন মুখ ফাতিনাজ ফিরোজ।

আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুণ ছাড়াও এ আসনটিতে গত ক’বছর ধরেই দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া বেশ ক’জন নেতা। প্রচার-প্রচারনা, গণসংযোগ ও সভা শোডাউন অব্যাহত রেখেছেন তারা। তার মধ্যে অন্যতম কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সহ সম্পাদক এম মনিরুজ্জামান মনির।

এলাকায় গণসংযোগ করছেন কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনও।

এরইমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মিছিলে নতুন করে যোগ হন ফাতিনাজ ফিরোজ। গত রমজান ঈদের আগ থেকেই তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ। কেবল নিজের পক্ষে সমর্থন চাওয়াতেই তার কার্যক্রম সীমাবন্ধ রাখেননি। রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায় শোক দিবসের আলোচনা সভাসহ আওয়ামী লীগের উন্নয়ন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০ বিশেষ ব্রান্ডিং কর্মসূচিসহ বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষাবিদ ফাতিনাজ ফিরোজ বলেন, আমার স্বামী মরহুম ড. হান্নান ফিরোজ ছিলেন রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায় যখন মানুষ আওয়ামী লীগের কথা বলতে ভয় পেতেন তখন আমার স্বামী মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন আওয়ামী লীগের পতাকা তলে। তাঁর অর্থ, শ্রম ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বে আজ এ আসনে আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালি অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও দখিনাঞ্চলের মধ্যে রাজাপুর-কাঁঠালিয়া আসনটি উন্নয়ন বঞ্চিত এক জনপদ। প্রায় শত বছর ধরে বড়ইয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তৃর্ন জনপদ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। উপজেলার মানচিত্রটাই অনেকটা বদলে দিয়েছে বিষখালি নদীর ভাঙন। রাজাপুর-কাঁঠালিয়ার শতশত মানুষ গৃহহারা এমনকী সর্বস্ব হারায় বিশখালির ভাঙনে। এছাড়া আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার যে হারে উন্নয়ন হওয়ার কথা তা থেকেও এ জনপদের মানুষ অনেটাই বঞ্চিত। অপরদিকে আওয়ামী লীগে রয়েছে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব। দলীয় কার্যক্রম খন্ডখন্ড ভাবে পালিত হতে দেখা যায়। রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা গত ক’বছর ধরে অবমূল্যায়িত হয়ে প্রায় ঘরেই উঠে গেছেন। আসনটিতে এসব নানাবিধ সমস্যা সমাধানে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।’

ফাতিনাজ ফিরোজ বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি যাতে হাত ছাড়া না হয় সেই সাথে আমার মরহুম স্বামী ড. হান্নান ফিরোজ আসনটি নিয়ে যে স্বপ্ন দেখতেন তা পূরণ করতেই আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছি। সব কিছু বিবেচনা করে মানবতার মা খ্যাত হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনকের যোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা আমাকে হতাশ করবেনা বলেই আমি বিশ্বাস করি। আর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি যদি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাই তবে গণমানুণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ঝালকাঠি-১ আসনটি দলকে উপহার দিতে পারবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’