রাজাপুর-কাঁঠালিয়া বেহাল সড়কে এক বছর ধরে বাস চলাচল বন্ধ

রহিম রেজা, রাজাপুর (ঝালকাঠি) থেকে: ঝালকাঠির রাজাপুর-কাঁঠালিয়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানখন্দ তৈরি এবং ভেঙ্গে খালে পড়ে সংকীর্ন হয়ে যাওয়ায় ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাসসহ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের হাজার হাজার সাধারন মানুষ ঝুঁকি নিয়ে টেম্পো, নছিমন, করিমন, আটোরিক্সা কিম্বা মোটরসাইকেলে যাতায়াত করছে। এতে প্রায়শ ঘটছে দুর্ঘটনা। বর্ষা ও শীতে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থী রোগী ও যাত্রীরা। অন্যদিকে পন্য পরিবহন বন্ধ থাকায় ব্যাবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়ক নির্মান এবং সংস্কারে নি¤œমানের উপকরন ব্যবহার করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তবে সড়ক ও জনপদ বিভাগ বলছে, ১শ’ ১৪ কোটি টাকার একটি বিল পাশ হয়েছে, দ্রুতই এ সড়কের কাজ শুরু হবে। সরেজমিনে জানা গেছে, ঝালকাঠির রাজাপুর-কাঁঠালিয়া-আমুয়া সকড় দিয়ে প্রতিদিন দক্ষিনাঞ্চলের ঝালকাঠি, রাজাপুর, কাঁঠালিয়া, আমুয়া, বামনা, পাথরঘাটা, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া ও বরগুনাসহ ঘোটা দক্ষিনাঞ্চলের কয়েক হাজার যাত্রী যাতায়ত করে। এই সড়কের রাজাপুর-কাঠালিয়ার-আমুয়া ৩৭ কি.মি. অংশে বিভিন্ন যায়গায় বড়বড় গর্ত ও খানাখন্দক তৈরি হওয়াসহ কয়েকটি স্থানের সড়ক ভেঙ্গে খালে পড়ে যাওয়ায় সংকীর্ন হয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এ সড়কে যাত্রীবাহি বাস ও পন্যবাহি ট্রাকসহ ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে এ পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া হয়ে ঘুর পথে যাত্রী ও পন্য পরিবহন করতে হচ্ছে। যাতে অর্থ এবং সময়ের অপচয় হচ্ছে। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জেলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়ীক বন্দর আমুয়ার ব্যসায়ীদের। বিভিন্ন সময় আমুয়া সড়কে পন্যবাহি ট্রাক দুর্ঘটনায় পড়ে পন্যের ক্ষতি হচ্ছে। সম্প্রতি ৪শ’ বস্তা সার ও কয়েকটি পন্যবাহি ট্রাক দুর্ঘটনায় চালকরাও আমুয়া সড়কে পন্য পরিবহনে অনীহা প্রকাশ করছে। যাত্রী, চালক ও স্থানীয়রা বলছে, রাজাপুর-কাঠালিয়া সড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও দূর-দূরন্ত থেকে আসা যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে টেম্পো, নছিমন, করিমন, আটোরিক্সা কিম্বা মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়য়ে ক্লাসে যেতে পারছেন না। বিপাকে পড়েছেন চাকুরিজীবিরাও। বর্ষাদিনে এ ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকগুন। এছাড়া ঝুকি নিয়ে চলাচল করায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব গাড়িরও বিভিন্ন যন্ত্র নষ্ট ও ভেঙে রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও দাবি করা নিয়ে যাত্রীদের সাথে চালকদের বাকবিতন্ডা নিত্যনৈমিত্য ব্যাপার। সকড় বিভাগের লোকজন মাঝে মধ্যে সড়ক এক এক অংশ খন্ড আকারে নির্মান এবং সংস্কারে নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এছাড়া ভাঙা স্থানে দায়সারাভাবে ইট-খোয়া ও পাথর ফেলে রাখায় পায়ে হাটাও কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাড়ায়। ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন সমকালকে জানান, ঝালকাঠি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলি সড়কটির নানা সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান সড়কটি সংস্কার, প্রসস্থকরন ও ৪টি ব্রীজ নির্মানের লক্ষ্যে ১শ’ ১৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের বিল গত অক্টোবর মাসে পাশ হয়েছে, এখন টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে এবং শীগ্রই টেন্ডার আহবান করা হবে। এরপর দ্রুতই এ সড়কের কাজ শুরু হবে। কাজ সম্পন্ন হলে নির্ভীগনে এ আঞ্চলের মানুষ যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
ঝালকাঠি, রাজাপুর, কাঁঠালিয়া, আমুয়া, বামনা, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা ও বরগুনাসহ ঘোটা দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করার দাবি দীর্ঘদিনের।