রাজাপুরে পুলিশি হয়রানি ও অর্ধশতাধিক জেলের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন

রহিম রেজা, রাজাপুর (ঝালকাঠি) থেকে: ঝালকাঠির রাজাপুরের বড়ইয়ার বিষখালি নদীর অর্ধশতাধিক জেলের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশের দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, চাঁদা আদায়, ঘুষ গ্রহন, জেলে নির্যাতন, ইলিশলুটে জড়িতদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শতাধিক জেলে পরিবারের ৩ শতাধিক সদস্যরা। বুধবার সকালে বড়ইয়া ইউনিয়নের পালট কাচারিবাড়ি বাজার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপি এ মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বড়ইয়া জেলে সমিতির সভাপতি জহিরুল হক খলিফা, যুবলীগ নেতা খায়রুল আলম মতিন, পুলিশের নির্যাতনের শিকার নুরি বেগম, হেলেনা বেগম, হেনা বেগম, জাহানারা বেগম ও মমতজা বেগম প্রমুখ। বক্তারা অভিযোগে বলেন, বাখেরগঞ্জের নিয়ামতির নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আতিকুর রহমানসহ অন্যরা বিভিন্নভাবে ঘুষ গ্রহন ও দাবি করে আসছিলো। তাদের দাবি সঠিকভাবে পূরণ না হলেই জেলেদের নানাভাবে হয়রানি, শোষণ ও নির্যাতন করা হয়। অর্ধশত জেলের নামে মামলা হওয়ায় প্রতিরাতে পুলিশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নানাভাবে জেলে পরিবার পরিজনদের হয়রানি করছে। পুলিশী হয়রানিতে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। অর্ধশত জেলের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া তারা বাড়ি ছাড়া, এমন পরিস্থিতিতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন। প্রশাসনের উর্ধ্বতনের কাছে পুলিশ হয়রানি, ঘুষবানিজ্য বন্ধ ও মিথ্যা মামলার প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা। জেলে নুরজামালকে নির্যাতন করে উল্টো ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় বলেও অভিযোগ বক্তাদের। গত ১৫ নভেম্বর সকালে জেলে নুরজামাল ও তার মা নুরি বেগমকে নির্যাতনের জেরে জেলে পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ১১ জেলে ও পুলিশ হয়। এ ঘটনায় বাখেরগঞ্জের নিয়ামতির নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আতিকুর রহমান বাদি হয়ে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে মারধর করে আসামী ছিনিয়ে ও অবৈধ কারেন্ট জাল দখলে রাখার অভিযোগে ওইদিন রাতে রাজাপুর থানায় অর্ধশত জেলের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ শামিম ও খলিল নামে দুই জেলেকে গ্রেফতার করে এবং অপরদিকে ২০ নভেম্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আতিকুর রহমানসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ , দাবি, চাঁদাবাজি, মাছলুট ও হামলা-শ্লীলতাহানির অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালতে জেলে মন্নাফ বাদি হয়ে মামলা করেন।