রাজশাহীতে হত্যা মামলার আসামি করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ‘উচ্ছেদ’

রাজশাহী মহানগরীর শেখের চক এলাকার এক মুক্তিযোদ্ধা পরিববারকে হত্যা মামলায় ‘মিথ্যা আসামি’ বানিয়ে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদালতের রায়ে মামলা থেকে খালাস পেয়ে বসতবাড়িতে ঢুকতে গেলে পরিবারটিকে মারধর করা হয়। প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকি দিচ্ছে স্থানীয় কয়েকজন সন্ত্রাসী।

মঙ্গলবার দুুপুরে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল জলিলের মেয়ে রেহেনা বেগম। বাড়িটি ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রাজশাহীর প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেহেনা বেগম বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই শেখের চক মাদ্রাসা মাঠসংলগ্ন সরকারি ২০ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছিলেন তিনি। নিয়মিত জমির খাজনাও পরিশোধ করেছেন। ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর কবুতরকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী মর্তুজা পরিবারের সঙ্গে তাদের আত্মীয়স্বজনের মারামারি হয়।

এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয় জানিয়ে রেহানা বেগম বলেন, ‘মারামারির ঘটনায় আহত মর্তুজার ছেলে জনি ১১ দিন পর মারা যান। এ ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ মামলায় একজন ছাড়া সবাই আদালতের রায়ে খালাস পেয়েছে।’

রেহেনা বেগম বলেন, ‘জনি হত্যায় আমরা কেউ জড়িত ছিলাম না। কিন্তু তারপরও আমাদের সবার নামে মামলা করেছিল প্রতিপক্ষ। এর পর থেকেই তারা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিল। ফলে প্রাণভয়ে আমরা বসতবাড়ি থেকে পালিয়ে যাই। এরপর প্রতিবেশী মৃত আব্দুল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান রনি, অপ্সাত আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন, মাখন হাজির ছেলে নুরু ও জনি বসতবাড়ি দখলে নেয়। দখলদারদের সাথে আমাদের কোনো ঝামেলা পূর্বেও ছিল না।’

এখন তারা বাড়িতে ফিরতে গেলে রনি, আনোয়ার, নুরু ও জনি তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রেহানা। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে গেলেই তারা হাঁসুয়া হাতে তাড়া করে। বসতবাড়ি ফিরে পেতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। স্থানীয় অনেক রাজনীতিবিদের মদদে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীরা।’

রেহেনা বেগম বলেন, বসতবাড়ি হারিয়ে তারা ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। স্বামী ও সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। এ ব্যাপারে ন্যায়বিচারের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রেহেনার স্বামী শফিকুল ইসলাম ও মেয়েজামাই শামিম আহমেদ।