রাজশাহীকে হারাতে রংপুরের লক্ষ্য ১৪২

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অন্য ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন চলতি আসরের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান লরি ইভানস। আশা জাগাচ্ছিলেন একাই রাজশাহী কিংসের ইনিংসকে টেনে নেয়ার। কিন্তু ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে পয়েন্টে দাঁড়িয়ে অসাধারণ এক ডাইভিং ক্যাচে ইভানসের বিদায়ঘণ্টা বাজান নাহিদুল ইসলাম।

একইসঙ্গে রাজশাহীর ইনিংসটাও অল্পেই আটকে রাখার কাজটিও সেরে ফেলেন তিনি। যে কারণে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রানের বেশি করতে পারেনি মেহেদি হাসান মিরাজের দল। টানা পঞ্চম জয় পেতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সকে করতে হবে ১৪২ রান।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটাই ভালো হয়নি রাজশাহীর। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই সাজঘরে ফিরে যান ক্যারিবিয়ান ওপেনার জনসন চার্লস (১২)। পরের ওভারেই আউট হয়ে যান তিন নম্বরে নামা মুমিনুল হকও (৪)।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৩৪ রান যোগ করেন ওপেনার সৌম্য সরকার এবং লরি ইভানস। ১৬ বল থেকে ১৪ রান করে দলীয় ৬২ রানের মাথায় ফেরেন সৌম্য। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন অধিনায়ক মিরাজ। দারুণ এক চারের মারে নিজের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো করেন তিনি।

কিন্তু ইনিংসের দশম ওভারে ৭২ রানের মাথায় দায়িত্বজ্ঞানহীন শটে ছক্কা মারতে গিয়ে সরাসরি বোল্ড হয়ে দলের বিপদ বাড়িয়ে দেন তিনি। তখন দলের পুরো দায়িত্ব বর্তায় দুই বিদেশী লরি ইভানস ও ক্রিশ্চিয়ান জঙ্কারের কাঁধে।

দারুণ খেলতে থাকা ইভানস আউট হন ইনিংসের দ্বাদশ ওভারে, নাহিদুল ইসলামের দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত হয়ে। আউট হওয়ার আগে ৫ চারের মারে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন তিনি। এরপর জঙ্কারও ১ চার ও ছক্কার মারে ১৬ রান করে ফিরে গেলেই মূলত মোড়ক লাগে রাজশাহীর ইনিংসে।

সপ্তম উইকেট জুটিতে ৪০ রান যোগ করে দলের সংগ্রহকে ১৩৬ পর্যন্ত নিয়ে যান ফজলে রাব্বি এবং কাইস আহমেদ। ইনিংসের শেষ ওভারে অ্যালেক্স হেলসের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে ১৮ রান করে ফেরেন ফজলে রাব্বি। ঠিক পরের বলেই ২২ রান করে আউট হন কাইস আহমেদ।

ফরহাদ রেজার হ্যাটট্রিক বল মোকাবিলা করতে নামেন মোস্তাফিজুর রহমান। তবে উইকেট ক্রসওভার করায় সে বল খেলেন আরাফাত সানি। এক রান নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা শেষ করে দেন তিনি। ইনিংসের শেষ বলে চার মেরে দলের সংগ্রহটা ১৪১ রানে নিয়ে ঠেকান মোস্তাফিজ।

রংপুরের পক্ষে বল হাতে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন ফরহাদ রেজা। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন নাজমুল ইসলাম অপু এবং শহীদুল ইসলাম।