রাজন-রাকিব হত্যা: দ্রুত রায়ে প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে পর পর দুটি শিশু হত্যাকাণ্ড আমাদের মনুষ্যত্ববোধকে নাড়া দেয়। পুরো জাতি এ দুটি ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে যায়। প্রশ্নবিদ্ধ করে আমাদের বিবেকবোধ, মনুষ্যত্ববোধ এমনকি সভ্যতাকে।

১৩ বছরের দুটি শিশু। এ পৃথিবীর রং, রুপ, সৌন্দর্য সম্পর্কে কোনো ধারণা হওয়ার আগেই পাশবিকতার কাছে হার মানতে হয় শিশু রাজন ও রাকিবকে।

কোনো সমাজই অপরাধমুক্ত নয়। অপরাধেরও মাত্রা আছে। আছে শাস্তির বিধানও। কোনো মানুষ অপরাধ করলে আইন তাকে শাস্তি দেয়। কখনো কখনো সে শাস্তি কঠোরও হতে পারে। কিন্তু সে কঠোরতারও মাত্রা আছে। আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান আছে।

একসময় মানুষকে চরম কষ্ট ও যন্ত্রণা দিয়ে মেরে ফেলা হতো। তাকে শুলে চড়িয়ে, উপর থেকে নীচে ফেলে দিয়ে, অঙ্গহানী করে হত্যা করা হতো। সেটা সভ্যতার আগের কথা। এখনতো আমরা সভ্য। অন্তত সে দাবীতো করি।

তবে একোন সভ্যতা? যেভাবে দুটি শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো তা অন্ধকার যুগের নমুনা। শুধু খুন করা হয়নি, খুনের ভিডিওচিতও ধারণ করা হয়েছে। হত্যা করার পর মরদেহ গুম করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হন মূল আসামী কামুরুলের ভাই মুহিত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে খবর ছড়িয়ে পড়লে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সর্বস্তরের মানুষ এ ঘটনার প্রতিবাদ করে।

যথারীতি মামলা হয়। আশার কথা এইযে, অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এ মামলা দুটি পরিচালিত হয়। বিচার বিভাগ যেভাবে মামলা দুটির বিচার কাজ সম্পন্ন করেছে তা নজিরবিহীন। বিচারের দীর্ঘসূত্রীতার বেড়াজাল থেকে বের হয়ে ন্যায়বিচারের এক নতুন প্রত্যাশার সৃ্ষ্টি করেছে এ রায় দুটি। বিচার শুরু হওয়ার মাত্র ১৬ কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় আসলো। এটি নিম্ন আদালতের সদিচ্ছা ও দক্ষতারও একটি উদাহরণ।

অপরাধীদের বিচার শেষ হয়েছে। রাজন হত্যা মামলায় মূল আসামি কামরুলসহ ৪ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেছেন আদালত। এছাড়া একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বাকিদের অন্যান্য মেয়াদের শাস্তি দিয়েছেন আদালত। খালাসও দেয়া হয়েছে তিনজনকে। ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর মিয়ার যাবজ্জীবন প্রদান করেন আদালত।

এদিকে শিশু রাকিব হত্যা মামলার রায়ে দুই আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। তিন আসামির অন্যজন খালাস পেয়েছেন।

রাকিব হত্যা মামলার রায় আসলো মাত্রা ১১ বিচারিক কার্যদিবসে। এটি দেশের বিচার ও আইন-আদালতের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

গত ৩ আগস্ট বিকেলে নগরীর টুটপাড়া কবরখানা মোড়ে শরীফ মোটরসের মালিক শরীফ যানবাহনের টায়ারে হাওয়া দেওয়া (কম্প্রেসার) মেশিনের নল ১২ বছরের শিশু রাকিবের মলদ্বারে ঢুকিয়ে হাওয়া দিতে থাকেন। এতে তার পেট ফুলে ফেঁপে যায়। এক পর্যায়ে রাকিব মারা যায়। এরকম পৈশাচিক ও নির্মম হত্যাকাণ্ড আর কখনো ঘটেনি।

ন্যায়বিচার মানুষের পরম প্রাপ্তি। স্বচ্ছ ও যথাযথ বিচারের মাধ্যমেই ন্যায়বিচার আসে। ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা শিশু রাজন ও রাকিবকে তার মা-বাবা ও স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারবোনা। বিচারের রায় হয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যেমে এ ঘটনার আর যেনো পুনরাবৃত্তি না হয় সেটাই প্রত্যাশা।

Leave a Reply