রাজধানীর বাড্ডায় ফিল্মি স্টাইলে যুবককে গুলি করে হত্যা

রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় দিন-দুপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আবুল বাশার বাদশা (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তবে কী কারণে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে পুলিশ তা জানাতে পারেনি।

শনিবার দুপুরে মেরুল বাড্ডার মাছের বাজারে চার যুবক প্রবেশ করে গণশৌচাগারে যান। শৌচাগারের সামনে এক যুবকের সঙ্গে তাদের কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ওই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। অজ্ঞাত ওই চারজন সেখান থেকে পালাতে থাকেন। এ সময় জনতা ধাওয়া করে রামপুরা ব্রিজের কাছে গিয়ে নুরুল ইসলাম নূরী নামে একজনকে ৬ রাউন্ড গুলি ভর্তি রিভলবারসহ আটক করে। গুলিবিদ্ধ বাদশাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। তার থুতনীতে দুই রাউন্ড গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. আলাউদ্দিন জানান, একটি গুলি বের করা হলেও আরেকটি গুলি তার মাথার ভেতরে থেকে যায়। নাক ও মুখ দিয়ে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের ফলে তিনি মারা যান।

পুলিশের ধারণা, বাড্ডার সন্ত্রাসী মেহেদী-রায়হান গ্রুপের এরা ভাড়াটিয়া কিলার হিসেবে কাজ করে। কিলার গ্রুপের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা ও মাদক ব্যবসার আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহত বাদশা পুলিশের খাতায় মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে নাম অন্তর্ভুক্ত করা আছে। এ ঘটনায় আটক নূরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১ টার দিকে মেরুল বাড্ডার মাছের আড়তের পাশে বাদশা দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় সেখানে ৪ জন যুবক আকস্মিকভাবে এসে তার থুতনীতে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন বাদশাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সন্ধ্যা ৬ টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহত বাদশার স্ত্রী শিউলী আক্তার জানান, তার স্বামীর বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যা থানায়। ৯ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। এক সময় তারা টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় থাকতেন। ওখানে থাকার সময় মাদক রাখার কারণে বাদশা জেল খাটেন। কিছুদিন ধরে তারা বাড্ডার মেরুল আনন্দ নগরে একটি টিনসেট বাসায় ভাড়া নিয়ে থাকতেন। শিউলী স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন ও বাদশা মৌচাকে একটি কাপড়ে দোকানে চাকরি করতেন।

তিনি জানান, সকালে বাদশাকে বাসায় রেখে তিনি অফিসে যান। পরে বাদশার মা আমেনা বেগম তাকে জানান, চার যুবক বাদশাকে ডেকে নিয়ে মেরুল মাছ বাজারের সামনে গুলি করে ফেলে রেখে গেছে।

বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, দুপুরের দিকে মেরুল মাছবাজার এলাকায় বাদশা নামে এক যুবককে গুলি করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে বাদশা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। বাদশাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এছাড়া গুলিবর্ষণকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ একজনকে অস্ত্রসহ আটক করে। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সেই মামলা ডিবি তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাদশা ও আটক ব্যক্তি এক সঙ্গে ব্যবসা করতো। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শক্রতার জের অথবা মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে বাদশাকে হত্যা করা হয়েছে।

Inline
Inline