রংপুর, ঢাকা, সাতক্ষীরায় প্রার্থী হতে চান এরশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে তিনটি আসনে দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নিজ এলাকা রংপুর-৩ এর পাশাপাশি ঢাকা-১৭ এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনেও প্রার্থী হতে চান তিনি।

রবিবার দুপুরে এরশাদের হাতে মনোনয়ন ফরম তুলে দেন দলের ফরম বিতরণ কমিটির আহ্বায়ক দলের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভুইয়া।

এরশাদ বলেন, ‘মনোনয়ন ফরম বিক্রির মধ্য দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হলো, শেষ হবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে। অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টি টিকে আছে। নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতায় যেতে প্রস্তুত।’

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে এরশাদ যে তিনটি আসনে ভোট করেন, তার মধ্যে রংপুর-৩ ও ঢাকা-১৭ ছিল। পরে ঢাকা-১৭ রেখে বাকিগুলো তিনি ছেড়ে দেন। তবে ২০১৪ সালে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।

বিএনপি ভোটে এলে এবারও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির জোটবদ্ধ নির্বাচন করবে-আগেই ছিল ঘোষণা। আর দশম সংসদ নির্বাচন করা বিএনপির পক্ষ থেকে ভোটে আসার কথা জানানো হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবেই।

ঢাকা-১৭ আসনে এরশাদের পাশাপাশি নির্বাচন করতে চান আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম তোলা সাবেক বিএনপি নেতা নাজমুল হুদাও।

এরশাদ পত্নী বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ দলের ফরম নিয়েছেন একটি আসনের জন্যই। তিনি নির্বাচন করতে চান ময়মনসিংহ সদর আসন থেকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে; পটুয়াখালী-১ ও ৪ আসনে ফরম নিয়েছেন দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ঢাকা-৪ আসনে, কাজী ফিরোজ রশীদ ঢাকা-৬ আসন, এসএম ফয়সল চিশতী ঢাকা-১১, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু চট্টগ্রাম-৯, খালেদ আকতার লালমনিরহাট-১, লিয়াকত হোসেন খোকা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও আসন, শফিকুল ইসলাম সেন্টু ঢাকা-১৩, জহিরুল আলম রুবেল মানিকগঞ্জ-৩ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

মনোনয়ন ফরম বিতরণকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে রাজধানীর গুলশানে সকাল থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা বাদ্য বাজনা ও মিছিল নিয়ে সকাল থেকে ইমানুয়েলসে ভিড় করতে থাকেন।

আগামী ২৩ ডিসেম্বরের ভোটকে সামনে রেখে আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনে।