যৌতুক না দিতে পারায় চোখ হারালেন সফুরা

নিজস্ব প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার সাহাপুর গ্রামে সফুরা বেগম নামের এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে চোখ নষ্ট করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

আহত গৃহবধূকে রাজধানীর ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূ সফুরা বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, সোনারগাঁ পৌরসভার সাহাপুর গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার রায়পুরা গ্রামের আব্দুস সোবহানের মেয়ে সফুরা বেগমের ১০ বছর পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য বিভন্ন সময়ে নির্যাতন করে আসছিল। গৃহবধূ কয়েক দফায় স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেনকে যৌতুক এনে দেন। তাদের সংসারে সাত বছরের একটি সন্তান রয়েছে।

গত সোমবার রাতে স্বামী জাহাঙ্গীর আবারো যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দেন। এতে গৃহবধূ রাজি না হওয়ায় স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেন, শ্বশুর শাহাবুদ্দিন, শ্বাশুড়ি পিয়ারা বেগম গৃহবধূকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে স্বামী ও শাশুড়ি গাছের সঙ্গে মাথা ঠুকিয়ে চোখ নষ্ট করতে মারাত্মকভাবে আহত করেন। পরে মারাত্মক আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করে।

সফুর বেগম অভিযোগ করেন, যৌতুকের দাবিতে তার চোখ নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। সে এখন চোখে দেখছে না।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁ থানায় বাদী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

সোনারগাঁ থানা পুলিশের ওসি মোরশেদ আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ নেয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।