যৌতুকের দাবি মিটাতে না পারায় অসহায় গৃহবধু

এস এম হাসান আলী বাচ্চু, তালা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি: বিয়ের সময় দাবী মোতাবেক বর পক্ষকে সব মিলিয়ে দিতে হয়েছিল ২ লক্ষাধিক টাকার যৌতুক। বিয়ের পর আবারও দাবী মটরসাইকেল কেনার জন্য ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা! কিন্তু যৌতুকের দাবীর সেই দেড় লক্ষ টাকা দিতে না পারায় তালার দরিদ্র পরিবারের মেয়ে শ্যামলী সরকারের জীবনে নেমে এসেছে অমানিশার ঘোর অন্ধকার। এক দিকে কোলে শিশু সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়ি ছাড়া, অপরদিকে স্বামী, শশুর ও শাশুড়ির হুমকির মূখে অসহায় হয়ে পড়েছে গৃহবধু শ্যামলী সরকার। বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন’র মধ্যে থাকা গৃহবধু শ্যামলী সরকার- স্বামী-সংসারের অধিকার ও কোলের শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। শ্যামলী সরকার উপজেলার লক্ষনপুর গ্রামের বিনয় সরকারের মেয়ে।
শ্যামলী সরকার জানান, প্রেম সম্পর্ক সূত্রে একই গ্রামের মনোরঞ্জন সরকারের ছেলে তিশান সরকারের সাথে বিজ্ঞ নোটারী পাবলিক আদালত’র মাধ্যমে ২০১৪ সালের ৫ আগষ্ট বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদির পর উভয় পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে তিশান ও শ্যামলী খ্রীষ্টান ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী আবারও বিয়ে করেন। এসময় স্বামী তিশানের দাবী অনুযায়ী শ্যামলীর পিতা স্বর্নালংকার ও আসবাবপত্র সহ ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল যৌতুক প্রদান করে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পার হতেই মটরসাইকেল কেনার জন্য তিশান আরো দেড় লক্ষ টাকা দাবী করলে শ্যামলীর দরিদ্র পিতা তা দিতে ব্যর্থ হয়। এতে তিশান তার স্ত্রী শ্যামলীকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
শ্যামলী জানান, গত বছরের ৪ জুলাই তিশান যৌতুকের দাবীতে তার (স্ত্রী শ্যমালীর) পিতার বাড়িতে যায়। এসময় সে আবারও মটরসাইকেল কেনার জন্য দেড় লক্ষ টাকা দাবী করলে শ্যামলী ও তার পিতা দিতে অস্বীকার করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিশান তার স্ত্রী শ্যামলীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এঘটনায় শ্যামলীকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ঘটনার বিচার চেয়ে শ্যামলী সরকার তার স্বামীর বিরুদ্ধে তালা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী অফিসার এস.আঅই মিজানুর রহমান প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে ইতোমধ্যে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট (১২৮/১৭) প্রদান করেছেন। বর্তমানে মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধিন রয়েছে।
এদিকে, মামলা দায়েরের পর থেকে অদ্যবদী পুলিশ যৌতুকলোভী তিশান সরকারকে গ্রেফতার করতে পারেনি। যে কারনে তিশান ও তার পিতা মনোরঞ্জন এবং মা’ পারুল সরকার প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নেবার জন্য প্রকাশ্যে শ্যামলীকে হুমকি প্রদান করছে। এতে চরম নিরাপত্তহীনতায় ভুগছে অসহায় শ্যামলী সরকার। শ্যামলী সরকার অভিযোগ করে বলেন, তিশান ইতোমধ্যে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেছে। তাছাড়া,
যৌতুক হিসেবে মটরসাইকেল না দেওয়ার জেরে তিশান তার স্ত্রী শ্যামলী ও ১৭ মাস বয়সী শিশু সন্তান জিসান সরকারের কোনও দেখভাল করে না। বর্তমানে অসহায় হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে গৃহবধু শ্যামলী সরকার।

Inline
Inline