যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা গৃহবধু জান্নাতির

গাইবান্ধা থেকে, আ.খালেক মন্ডল : গাইবান্ধা সদর উপজেলার কিশামত মালিবাড়ি ধর্মপুর গ্রামে যৌতুক না পেয়ে পাষন্ড স্বামী শ্বশুর-শ্বাশুড়ী সহ কয়েক জন জান্নাতী (২০) নামের এক গৃহবধুকে বেধরক মারপিট করে গুরুতর আহত করেছে।আহত গৃহবধু বর্তমানে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডের ১৯ নম্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জান্নাতীর মাথায় ও বাম গালে হাড়কাটা জখম রয়েছে। এছাড়া তার বাম চোখটি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে জান্নাতী আশঙ্কামুক্ত হলেও তার বাম চোখের দৃস্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের মৃত ইসলাম মিয়ার ছেলে মামুন মিয়ার সাথে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জান্নাতীর বছর দুয়েক আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মামুন ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে যৌতুক দাবি করে আসছিল। এনিয়ে কয়েক দফায় জান্নাতীকে মারধর করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শালিশও হয়েছে কয়েকবার। কিন্তু যৌতুকের দাবি ছাড়েনি মামুন ও তার পরিবার। এক পর্যায়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে বারোটার দিকে মামুন ও তার পরিবারের লোকজন জান্নাতীকে তার বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক বাবদ এক লাখ টাকা আনতে বলে। এতে রাজি না হওয়ায় তারা জান্নাতীকে এলোপাথারি মারধর শুরু করে। এসময় জান্নাতীর মাথায়, বুকে, বাম গালে গুরুতর হাড়কাটা জখম হয়।এবং বাম চোখে ঘুষি মারার কারণে চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে জান্নাতী। পরে স্থানীয়রা জান্নাতীকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। জান্নাতীর বাবা অভিযোগ করেন, মামুন সহ তার লোকজন নানা ধরনের ভয়-ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোঃ শাহরিয়ার বলেন, এই ঘটনায় জান্নাতীর বাবা বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছেন। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।