যে কারণে কাতারের পাশে তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাতার এবং সৌদি আরবসহ চার আরব দেশের বিরোধ মেটাতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে দুই দিনের সফর শুরু করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। সৌদি আরব সফরের আগে এরদোয়ান এই বিরোধ নিরসনে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ কুয়েতে যাবেন। এরপর তিনি যাবেন কাতার।
জুন মাসে ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়া’ এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিশর। এরপর দুই দফায় কাতারকে নানা রকম শর্ত দেয় আরব দেশগুলো, যা মানতে অস্বীকৃতি জানায় কাতার।বিবিসির প্রতিবেদনে মনে করা হচ্ছে, এ সফরের মাধ্যমে এরদোয়ানের পক্ষে এই বিরোধ নিরসনে ভূমিকা রাখার সুযোগ খুবই কম। কেননা, তুরস্ক ইতিমধ্যেই কাতারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, আবার একই সঙ্গে দেশটি সৌদি আরবের বিপক্ষে অবস্থান নেবে না।জুনে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো কাতারের ওপর অবরোধ আরোপের ফলে দেশটিতে যেন খাদ্য সংকট তৈরি না হয় সেই জন্য খাদ্যসামগ্রী পাঠায় তুরস্ক। দেশটির ওপর আরোপ করা অবরোধেরও কড়া সমালোচনা করেছিলেন এরদোয়ান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাতারের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। ২০১৫ সালে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দুই দেশ। এ ছাড়া কাতারে সামরিক ঘাঁটিও তৈরি করেছে তুরস্ক।বিশেষজ্ঞদের মতে, আরব বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দোহাকে অন্যতম মিত্র হিসেবে আঙ্কারার অবস্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু কারণ রয়েছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সেনা সদস্যদের একাংশের অভ্যুত্থানের ব্যর্থ চেষ্টার সময় প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। অভ্যুত্থান চেষ্টার পর এরদোয়ানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতারের বিশেষ বাহিনীর ১৫০ সদস্যের একটি ইউনিট তুরস্ক পাঠানো হয়েছিল বলেও জানা যায়।তাছাড়া দুই দেশের সরকারের মধ্যে আদর্শিক ঐক্যও রয়েছে। মিশরভিত্তিক ইসলামপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুড ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে মনে করে না দুই দেশই।আবার ইরানের প্রতিও দেশ দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম। দুই পক্ষই স্বীকার করে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তি হলো ইরান।