যুক্তরাষ্ট্রে সিনহার রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশের পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। তবে আবেদনের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বর্তমানে তিনি কোনো ধরনের ‘স্ট্যাটাস বিহীন’ অবস্থায় দেশটিতে অবস্থান করছেন।

এই সংবাদ প্রকাশ করেছে কানাডাভিত্তিক অনলাইন বাংলা দৈনিক নতুন দেশ। পত্রিকাটি জানায়, সিনহা বলেছেন, ‘আমি এখনো একজন রিফিউজি।’

শনিবার ওয়াশিংটনে আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম’ বই এর প্রকাশনা উৎসবে এই তথ্য জানান সাবেক প্রধান বিচারপতি।

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিদের মধ্যে সিনহা আলোচিত হয়ে উঠেছেন। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ে বেশ কিছু মন্তব্যের কারণে তার সমালোচনা উঠে সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

এক পর্যায়ে গত বছরের ১৩ অক্টোবর এক মাসের ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে যান সিনহা। কথা ছিল ১০ নভেম্বর দেশে ফিরে আবার কাজে যোগ দেবেন তিনি। কিন্তু দেশে না ফিরে সিঙ্গাপুর দূতাবাসের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

আবার দেশের বাইরে যাওয়ার পরদিন সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, বিদেশে অর্থপাচার, নৈতিক স্ফখনজনিত ১১টি গুরুতর অভিযোগ আছে সিনহার বিরুদ্ধে আর এ কারণে তার সঙ্গে এজলাসে বসতে রাজি নন আপিল বিভাগের পাঁচ জন বিচারপতি।

তবে সিনহা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর তার বইয়ে দাবি করেছেন, হুমকির মুখে তিনি দেশ ছেড়েছেন। প্রথমে তিনি কানাডায় মেয়ের বাসায় গিয়ে উঠেন। আর পরে যুক্তরাষ্ট্রে যান ভাইয়ের বাসায়।

বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেন, আমেরিকায় তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে। যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে বক্তৃতা করার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি সেখানে যেতে পারছেন না। জেনেভা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমন্ত্রণেও তিনি সাড়া দিতে পারছেন না।

তার ভিসা এবং আশ্রয়ের ব্যাপারে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তাও চান সিনহা।

নিজের বই সম্পর্কে সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচার ব্যবস্থা নিয়ে তার নিজের যে লক্ষ্য এবং দায়িত্ব পাওয়ার পর যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তারই বিবরণ এই বই।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সিনহা কাদের সহায়তায় বই প্রকাশ করেছেন, তার সবই তিনি জানেন। তবে সাবেক প্রধান বিচারপতি দাবি করেন, বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি কারও কাছ থেকেই কোনো ধরনের সহায়তা পাননি। বইটি প্রকাশের জন্য কেউ বিনিয়োগ করতে রাজি হয়নি, এমন কি প্রকাশকও পাননি তিনি।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বই প্রকাশের পেছনে কাদের সহায়তা আছে তা খুঁজে দেখতে বলেছেন- এই বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিচারপতি সিনহা বলেন, ‘আমি একটি বই লিখেছি, সেই বই প্রকাশের ক্ষেত্রে যদি কারো ভূমিকা থাকে, কেউ যদি সহায়তা করেন সেটি কি অপরাধ?’

এই বই নিয়ে এতো ভয় কিসের? কেন তিনি আমার মুখ বন্ধ রাখতে চান- পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে সেন সিনহা।

তার বই প্রকাশে কেউ অর্থের যোগান দিয়েছে এমন অভিযোগের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বিচারপতি সিনহা বলেন, ‘আমার বইতো প্রকাশ করেছে আমাজন। আপনি কি মনে করেন আমাজান টাকা নিয়ে বই প্রকাশ করেছে?…টাকার অভাবে ভালো পেশাদার কোনো সম্পাদককে দিয়ে বইটি সম্পাদনা করাতে পারিনি। অনেক ভুল থেকে গেছে। এমন কি বইয়ের সূচিপত্র পর্যন্ত নেই।’

Inline
Inline