যাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা ইসলামে নিষিদ্ধ

ধর্ম ডেস্ক : বন্ধুত্ব আল্লাহ তাআলার নেয়ামত। এ জন্য যার-তার সঙ্গে বন্ধুত্ব নয়। ইসলাম মানুষের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছে। আবার যাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে অত্যাচারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের ব্যাপারেও দিয়েছে সুষ্পষ্ট ঘোষণা। সুতরাং বন্ধুত্ব করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

দুনিয়ার প্রতিটি কাজে ভালোবাসা রাখতে হবে আল্লাহর জন্য আবার ঘৃণাও করতে হবে আল্লাহর জন্য। এর অর্থ হলো এই যে, এমন কাজ করতে হবে, যা করলে আল্লাহ খুশী হবেন, ভালো কাজ করা ব্যক্তিকেও ভালোবাসাতে হবে আল্লাহর জন্য। আবার গোনাহের কাজে উৎসাহ বা প্রেরণাদানকারী ব্যক্তিকে বা কাজকে ঘৃণাও করতে হবে আল্লাহর জন্য।

যদি কেউ আল্লাহর বিপরীতে চলা ব্যাক্তিকে ভালোবাসে তবে তা হবে মুমিন মুসলমানের জন্য জুলুমস্বরূপ। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা ইসলামে বিরোধীতাকারী খ্রিস্টান ও ইয়াহুদিদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই একজন গণ্য হবে। নিশ্চয় আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ৫১)

ইয়াহুদি খ্রিস্টানরা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় থেকে শুরু করে এখনও ইসলাম ও মুসলমানের বিরোধীতায় নিজেদের সর্ব শক্তি প্রয়োগ করছে। এ কারণে কুরআনে আল্লাহ তাআলা খ্রিস্টান ও ইয়াহুদিদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। শুধু তাই নয় যারা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে তাদেরকে অত্যাচারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

ইয়াহুদি খ্রিস্টান ছাড়াও সেসব লোকদেরকেও বন্ধুরূপে গ্রহণ করা যাবে না, যারা ইসলাম ও মুসলমানের শত্রুতায় নিয়োজিত। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের অন্য আয়াতে তাদের বর্ণনা দিয়ে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন-

‘আল্লাহ ওই সব লোকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেনে, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের বাড়ি-ঘর, স্বদেশ থেকে বের করে দিয়েছে এবং তাদেরকে বের করার জন্য একে অপরকে সাহায্য করেছে। (তাদের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম) আর তাদের সঙ্গে যারা বন্ধুত্ব করে তারাই তো জালেম বা অত্যাচারী।’ (সুরা মুমতাহিনা : আয়াত ৯)

উল্লেখিত আয়াতে ঘোষিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যারা বন্ধুত্ব করে আল্লাহ তাআলার বাণী ও নির্দেশ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।

আর এসব লোক অত্যাচারী হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, তারা এমন লোকদের সঙ্গে ভালোবাসা রাখে, যারা ভালোবাসার সঠিক পাত্র নয়। দ্বীন ও ইসলামের প্রকাশ্য দুশমনি করে এবং ইসলাম প্রিয় ঈমানদার মানুষকে চরম বিপদের দিকে ঠেলে দেয়।

মনে রাখতে হবে
ইসলাম ধর্ম জাতি বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে উত্তম আচরণ ও ভালো ব্যবহারে নির্দেশ দিয়েছে । কিন্তু তাদের প্রতি এ হুকুম সাব্যস্ত হবে না, যারা প্রকাশ্যে ইসলামের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে।

সুতরাং ইসলাম ও মুসলমানের সঙ্গে যারা শত্রুতা করে, শত্রুতায় সহযোগিতা করে, প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তাদের সঙ্গে কোনোভাবেই বন্ধুত্ব করার হুকুম নেই। ইসলামের পরিভাষায় তারাই জালেম বা অত্যাচারী।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অন্যায়ভাবে যে কারো প্রতি শত্রুতা পোষণ করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। সত্য ও সুন্দরের পক্ষে থাকার তাওফিক দান করুন। অত্যাচারি হওয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।