যশোর ১ আসনে স্ব-ঘোষিত মাঠে লড়ছে যারা

এস এম মারুফ, বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোর জেলার সংসদীয় ৬টি আসনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যশোর-১ (শার্শা) আসন। এ আসনে দলীয় প্রতীক পেয়েছেন ৪ প্রার্থী।

এখানে বড় দু’দলেই রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। যদি দলীয় কোন্দল, প্রতীক কোন্দলে পরিণত হয় তবে এ আসনে সে দলের জয় অনেকটা অনিশ্চিত। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচারে তুঙ্গে রয়েছেন বর্তমান সাংসদ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও আফিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ আফিল উদ্দিন। অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা দলের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি গত মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে প্রচার-প্রচারণা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীদের মাঝে সংশয় বিরাজ করছে। এ আসনে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন ইসলামী আন্দোলনের মোঃ বখতিয়ার রহমান ও গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে জাকের পার্টির সাজেদুর রহমান ডাবলু।

জাকের পার্টির নির্বাচনী প্রচারণা চোখে পড়েলেও এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি ইসলামী আন্দোলন পার্টির। অতীতের নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আসনটির দাবিদার উভয় দল। যদিও এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলে অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরমে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন রাজনীতিবিদ বলেন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কাটিয়ে খোলসা না হলে মুখে দলীয় প্রতীকে ভোট দাও ভোট দাও বললেও নির্বাচনে জয়ী হওয়া উভয় দলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ কারণে এই আসনে আগামীতে জয়-পরাজয় নির্ভর করছে দলীয় কোন্দল কতটা নিরসন হয়েছে তার ওপর। যদি দলীয় কোন্দল প্রতীক কোন্দল হয়ে যায়, তবে সে দলের পরাজয় নিশ্চিত বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় জনগণ ও রাজনীতিবিদরা।

এ আসনে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ আফিল উদ্দিন জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় ব্যানারে পরপর দুবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের মফিকুল হাসান তৃপ্তি দীর্ঘদিন বহিষ্কৃত থাকায় স্থানীয় উপজেলা বিএনপির সভাপতি খাইরুজ্জামান মধু ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান জহির তৃপ্তি বিরোধী হয়ে পড়েন। তারাও নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করে ছিটকে পড়েছেন। এ অবস্থায় তাদের নিয়ে মাঠে সরব না থাকলে তৃপ্তিও তৃপ্তি পাবেন না।

এরই মধ্যে প্রার্থীরা এলাকা ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে রাশি রাশি প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকার জনগণ পাওয়া না পাওয়ার হিসাবও কষতে শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে এ আসনে নৌকা প্রতীকের শেখ আফিল উদ্দিনের সঙ্গে লড়াই হবে বিএনপি মনোনীত ঐক্যজোটের প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তির মধ্যে এমনটাই বক্তব্য স্থানীয়দের।

যশোরের সীমান্ত উপজেলা শার্শার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে যশোর-১ আসন গঠিত। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এই সংসদীয় আসনে অবস্থিত। সরকার এই বন্দর থেকে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। এসব কারণে সরকার ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীসহ সাধারণ জনগণের কাছে বেনাপোল বন্দর তথা শার্শা নির্বাচনী আসনটির গুরুত্ব অনেক বেশি। এই নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা এক লাখ ৩১ হাজার ৫০৯ জন। আর নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ জন।

স্থানীয় জনগণ ও রাজনীতিবিদদের ভাষ্য ও তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই নির্বাচনী আসনটিতে একক ভোটের হিসাবে বিএনপির তুলনায় আওয়ামী লীগ কিছুটা এগিয়ে।