যশোর থেকে যাত্রী নিয়ে কলকাতায় ছুটবে বন্ধন এক্সপ্রেস

যশোর সংবাদদাতা : সংরক্ষিত দুইশ আসন নিয়ে যশোরে থামবে খুলনা-কলকাতা রুটে চলাচলকারী আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেস। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে যশোরে এই স্টপেজ চালু হচ্ছে। আগামী ৭ মার্চ থেকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি যশোর থেকে যাত্রী নিয়ে ছুটবে কলকাতার উদ্দেশে।

ফলে চুয়ান্ন বছর পর আবারও যশোর স্টেশন থেকে সরাসরি কলকাতায় ট্রেন যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলো। স্বাধীনতার আগে পাকিস্তান আমলে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত যশোর অঞ্চল থেকে কলকাতার সঙ্গে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ ছিল। পরে ২০১৭ সালে খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস চালু হলেও যশোরে কোনো স্টপেজ ছিল না। যশোর জংশনে পাঠানো বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-পরিচালক (মার্কেটিং) কালিকান্ত ঘোষ স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে যাত্রাবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্ধন এক্সপ্রেসের ৫০টি এসি সিট ও ১৫০টি এসি চেয়ার যশোর জংশনের যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও যশোর স্টেশন থেকে সরাসরি ও অনলাইনের মাধ্যমে এই ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। ভ্রমণকরসহ ট্রেনটির এসি চেয়ারের ভাড়া এক হাজার ৫০০ টাকা ও এসি সিটের ভাড়া দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর কলকাতা-খুলনা রুটে ৪৫৬ আসনের আন্তর্জাতিক মানের যাত্রিবাহী ট্রেন ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ চালু হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ ট্রেনটির কেবিনে সিট ভাড়া দুই হাজার টাকা ও চেয়ার কোচের ভাড়া দেড় হাজার টাকা (ভ্রমণকর ৫০০ টাকাসহ)।

এদিকে যশোর রেল উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি খুলনা-কলকাতা রুটের বন্ধন এক্সপ্রেস যশোরে যাত্রাবিরতি করার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক এমআর খায়রুল উমাম ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন জানান, ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস চালু হওয়ার পর থেকে ট্রেনটির যশোরে যাত্রা বিরতির দাবি জানিয়ে আসছিল যশোরবাসী। সেই দাবি পূরণ হওয়ায় তারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তবে বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটির ভাড়া কমানো এবং সপ্তাহে একদিন চলাচলকারী ট্রেনটি অন্তত দুদিন চালানোর দাবি করেছেন যাত্রীরা। শহরের রেলগেট এলাকার ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, বন্ধন ট্রেনের ভাড়া কমানো এবং সপ্তাহে অন্তত দুদিন চালানোর দাবি জানাচ্ছি। কারণ অনেকেই ভারতে গিয়ে তিন-চারদিনের মধ্যে ফিরে আসতে চান। ফলে তারা যাওয়া এবং আসা দুটোই এই ট্রেনে করতে পারবেন। পা

যশোর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার পুষ্পল কুমার চক্রবর্তী জানান, খুলনা থেকে কলকাতা পর্যন্ত ট্রেনের যে সিট ভাড়া রয়েছে, যশোর থেকেও সেই ভাড়া পরিশোধ করে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। কলকাতা-খুলনা ট্রেন ৭ মার্চ থেকে যশোর স্টেশনে তিন মিনিটের জন্য দাঁড়াবে। পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিট দেখে যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানো হবে। বেনাপোল স্টেশনে নিয়ে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।