মোবাইলে পৌঁছে যাবে নিরাপত্তা বেষ্টনীর টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও দ্রুত সময়ে অর্থ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ জন্য বাস্তবায়ন করা হবে ক্যাশ ট্রান্সফার মডার্নাইজেশন (সিটিএম) প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যে সংস্থাটির সঙ্গে একটি ঋণ চুক্তি সই হয়েছে।

রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা বেগম এবং বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন থেকে দুদিনের মধ্যেই ভাতার টাকা পাবেন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির উপকারভোগীরা। এজেন্ট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতাভোগীদের হাতে পৌঁছে যাবে এই টাকা।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের সংস্থা আইডিএ’র ( ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন) দেয়া ৩০ কোটি মার্কিন ডলার ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এই টাকার ওপর বার্ষিক শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে মাহমুদা বেগম বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ। সেখানে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত লাইফ সাইকেল সিস্টেম রয়েছে। সেই সিস্টেম বাস্তবায়নে এ প্রকল্পটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

চিমিয়াও ফান বলেন, দারিদ্র্য নিরসনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এখন সেসব মানুষ অতিদরিদ্র বা যারা সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় রয়েছেন। তাদের কাছে সহজে এবং স্বল্প সময়ে অর্থ পৌঁছে দিতে প্রকল্পটি সহায়ক হবে। ভাতার অর্থায়ন ব্যবস্থায় আধুনিক ও তথ্য প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ সম্ভব হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল মো. ইউসুফ জানান, বর্তমান ব্যবস্থায় উপকারভোগীদের কাছে টাকা পৌঁছে দিতে ৪০-৪৫ দিন সময় লাগে। সেখানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই দিনে টাকা দেয়া সম্ভব হবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আধুনিকায়নের মাধ্যমে দরিদ্র, বয়স্ক, বিধবা ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা দেয়া সংক্রান্ত প্রোগ্রামগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দক্ষতা উন্নত করা। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত চারটি কর্মসূচি যেমন, বয়স্কভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির নগদ সহায়তা কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করা হবে।

উপকারভোগী নির্বাচন ও ভাতার অর্থ বিতরণ ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করা হবে। সরকারি কোষাগার হতে সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে ভাতার অর্থ পৌঁছে দেয়ার রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। প্রকল্পটি ৫ বছর মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে।

>> সিটিএম প্রকল্পে আড়াই হাজার কোটি টাকা
>> সরকারের সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংকের চুক্তি সই
>> দুই দিনেই ভাতার টাকা পাবেন উপকারভোগীরা

Inline
Inline