মেয়ে বিয়ে না দেয়ায় বাবার বিরুদ্ধে মামলা

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা সংবাদদাতা :  মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেশালীডাঙ্গা গ্রামে বাবা শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাংকের চেক ডিজঅনারের মামলা করেছেন প্রতিবেশী ভুট্টু মিয়া।
ইউনিয়ন পরিষদের কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে দিয়ে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে ভুট্টু মিয়াসহ তিনজন চেক ডিজঅনারের মামলা করেন বলে রোববার দুপুরে গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন শহিদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তেব্যে শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছর ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদের কর্মসৃজন প্রকল্পের ৪০ দিনের মাটি কাটার শ্রমিকের কাজ দেয়ার কথা বলে ৫ নভেম্বর ভুট্টু মিয়া তার নিজের টাকায় আমার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেন। পরে ১০টি চেকের পাতায় টাকার ঘরে ফাঁকা রেখে আমার স্বাক্ষর নিয়ে বিষয়টি কাউকে বলতে নিষেধ করেন।
আমি সহজ সরল প্রকৃতির লোক বিধায় তার এই চক্রান্ত না বুঝেই আমি স্বাক্ষর করি ও বিষয়টি পরিবার ও অন্য কোন লোককেও জানাইনি। এর কয়েকদিন পরে ভুট্টু মিয়া আমার বড় মেয়েকে কলেজে যাতায়াতের পথে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে। আমি বিষয়টির প্রতিবাদ করলে ভুট্টু মিয়া আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।
এরপর আমার মেয়েকে তার সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ভুট্টু মিয়া, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত ধোপাডাঙ্গা গ্রামের আবু হানিফ ২৩ জানুয়ারি ও উত্তর ধোপাডাঙ্গা গ্রামের মুকুল মিয়া ৪ মার্চ চেক ডিজঅনারের তিনটি পৃথক মামলা করেন।
আমি তাদের কাছে থেকে কোনো টাকা নিইনি যে চেকের মাধ্যমে তাদেরকে টাকা পরিশোধ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে আমার মেয়েকে ভুট্টু মিয়ার সঙ্গে বিয়ে দিতে আমি রাজি না হওয়ায় ভুট্টু মিয়া আমাকে দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করিয়ে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে মামলা করেছেন।
তাই প্রশাসনের কাছে আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করছি এবং আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা চেক ডিজঅনারের মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে ভুট্টু মিয়ার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী ও তিন মেয়ে।