মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ : ভর্তি হতে পারছে না ফরিদা আকতার

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা সংবাদদাতা : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের জরমনদী গ্রামের হতদরিদ্র রিক্সা চালক ফরিদ আহম্মেদ বাকীর মেয়ে ফরিদা আকতার এবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। সে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬৭.৫ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়।

মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় রিক্সাচালক পিতা ও তার পরিবারের লোকজন গর্বিত এবং খুশি। ফরিদা আকতারকে ১৫ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর এর মধ্যে ভর্তি হতে হবে। কিন্তু এত বড় একটা দুর্লভ সুযোগ পাওয়ার পরেও দরিদ্র পিতা প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে মেয়েকে ভর্তি করাতে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি আগামীতে শিক্ষা জীবনও বিপন্ন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ফরিদ আহম্মেদ বাকীর ২ মেয়ে ও ১ ছেলের মধ্যে ফরিদা আকতার সবার বড়। সে ২০০৯ সালে জরমনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, ২০১২ সালে সুন্দরগঞ্জ আমিনিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, ২০১৫ সালে সুন্দরগঞ্জ আমিনিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন এ+ (প্লাস) পায়। ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী নুরুল হাসান নাহিদ তাকে সংবর্ধনা প্রদান করে।

এরপর ২০১৭ সালে ঢাকা ক্যামবিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে গোল্ডেন এ+ (প্লাস) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। উক্ত পরীক্ষায় ৬৭.৫ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় হতদরিদ্র ফরিদা আকতার।

ছোট মেয়ে ফারজানা আকতার ২০১৩ সালে জরমনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, ২০১৬ সালে সুন্দরগঞ্জ আমিনিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। এখন সে দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। এছাড়া ছেলে মো. সাব্বির হোসেন সৌমিক গাইবান্ধা শহরের সিরাতুল মুস্তাকিন ক্যাডেট মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। ২০১১ সাল থেকে সৌমিক থ্যালাসামিয়া রোগে আক্রান্ত। তাকে প্রতিমাসে ১ থেকে ২ ব্যাগ রক্ত দেয়া লাগে। তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন।

রিক্সা চালক ফরিদ আহম্মেদের সন্তানদের শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহের কারণেই সন্তানরা শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু পরিবারে বৃদ্ধ মা’সহ সদস্য সংখ্যা ছয় জন হওয়ায় রিক্সা চালিয়ে তার সামান্য আয়ের উপর নির্ভর করে ৩ ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফরিদের। কিন্তু অর্থের অভাবে মেয়েকে ভর্তি করাতে না পারায় মেয়েকে নিয়ে দুঃখ দুর্দশার মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছে সে।

এখন ফরিদ আহম্মেদ বাকী আগের মত আর রিক্সা চালাতেও পারছে না। তাই তিনি দেশের বিত্তবান মানুষের কাছে সাহায্য সহযোগিতার জন্য হাত বাড়িয়েছেন।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- যৌথ একাউন্ট মো. ফরিদ আহম্মেদ বাকী ও মোছা. ফরিদা আকতার, একাউন্ট নং ০০২২২৪৯৮৪, সোনালী ব্যাংক, সুন্দরগঞ্জ শাখা, গাইবান্ধা। বিকাশ নং ০১৭৮৫-৪৩৩৪১৭। এই নম্বরে ০১৯৫৬-১৬০৩৩৬ যোগাযোগ করা যেতে পারে।