মুমিনুলের সেঞ্চুরির পর তাইজুল-নাঈমে স্বস্তি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মুমিনুল হকের সেঞ্চুরি এবং দিনের শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের লড়াকু পার্টনারশিপে আট উইকেটে ৩১৫ রান সংগ্রহ করে প্রথম দিন পার করেছে বাংলাদেশ। দিনটি পুরোপুরি বাংলাদেশের হতে পারতো। কিন্তু চা বিরতির পরপরই মাত্র ১৩ রানের ব্যবধানে চারটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেন ক্যারিবীয় পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। টাইগার ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক ১২০ রান করে আউট হন। দিন শেষে তাইজুল ইসলাম ৩২ রান করে ও নাঈম হাসান ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে ৬৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট শিকার করেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। এছাড়া কেমার রোচ ১টি ও জোমেল ওয়ারিকান ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচটি শুরু হয়েছে আজ। বৃহস্পতিবার সকালে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। কেমার রোচের করা ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ওপেনার সৌম্য সরকার। দুই বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। ২০১৭ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম টেস্ট ম্যাচের একাদশে জায়গা পেয়েছেন সৌম্য।

সৌম্য ফিরে যাওয়ার পর ১০৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হক। প্রথম সেশনের শেষ দিকে স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের করা ইনিংসের ২৭তম ওভারের পঞ্চম বলে শর্ট লেগে সুনিল আমব্রিসের হাতে ধরা পড়েন কায়েস। প্রথম সেশনে দুই উইকেটে ১০৫ রান সংগ্রহ করে করে লাঞ্চ বিরতিতে যায় টাইগাররা।

লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরে দ্বিতীয় সেশনও ভালোভাবে পার করে বাংলাদেশ। এই সেশনে বাংলাদেশ একটি উইকেট হারায়। দেবেন্দ্র বিশুর বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন মোহাম্মদ মিথুন। ফেরার আগে তিনি করেন ২০ রান। দ্বিতীয় সেশনে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুমিনুল হক।

চা বিরতি থেকে ফিরে মুমিনুল বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। চা বিরতির আগে তার সংগ্রহ ছিল ১১৬ রান। অর্থাৎ, তৃতীয় সেশনে তিনি ওই স্কোরের সাথে আর চার রান যোগ করে সাজঘরে ফিরে যান। দলীয় ২২২ রানে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন মুমিনুল। ফেরার আগে ১৬৭ বলে ১২০ রান করেন তিনি। এই ইনিংস খেলার পথে তিনি চার মেরেছেন ১০টি ও ছক্কা হাঁকিয়েছেন ১টি।

টেস্টে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সেঞ্চুরির দিক থেকে তামিম ইকবালের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মুমিনুল হক। টেস্টে তামিমেরও আটটি সেঞ্চুরি। ২০১৮ সালে টেস্টে মুমিনুলের এটি চতুর্থ সেঞ্চুরি। এই বছর টেস্টে মুমিনুল ছাড়া চারটি সেঞ্চুরি করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তাছাড়া চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মুমিনুলের এটি টানা তৃতীয় সেঞ্চুরি। গত জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই ভেন্যুতে এক ম্যাচে দুইটি সেঞ্চুরি করেছিলেন মুমিনুল।

মুমিনুলকে ফেরানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপে ভাঙন ধরান ক্যারিবীয় পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। মুনিুলকে ৫৯.৩ ওভারে ফিরিয়েছিলেন গ্যাব্রিয়েল। এই ওভারে মুশফিকুর রহিমকেও ফেরান তিনি। ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লিউ হন মুশফিক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করা মুশফিক তিন বল খেলে করেন চার রান।

এরপর ৬১.৫ ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে বোল্ড করেন গ্যাব্রিয়েল। সাত বলে তিন রান করেন রিয়াদ। ৬৩.৫ ওভারে সাকিব আল হাসানকেও বোল্ড করে ফেরান গ্যাব্রিয়েল। সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ৩৪ রান। ইনিংসের ৭৩তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজকে বোল্ড করেন জোমেল ওয়ারিকান। মিরাজ করেন ২২ রান। বাংলাদেশের অষ্টম উইকেটের পতন ঘটে দলীয় ২৫৯ রানে। এরপর ৫৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে অপরাজিত থাকেন তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। টেস্টে তাইজুলের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোর হচ্ছে ৩২। সুতরাং, আগামীকাল আর এক রান করলে টেস্টে আগের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর ছাড়িয়ে যাবেন তাইজুল। অন্যদিকে, নাঈম হাসান তার অভিষেক টেস্ট খেলছেন।

এই ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে ফিরেছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। হাতের ইনজুরির কারণে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজে তিনি খেলতে পারেননি। এর আগে ইনজুরির কারণে এশিয়া কাপের মাঝ পথে তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল। একাদশে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। অন্যদিকে, এই ম্যাচের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৯৩তম ক্রিকেটার হিসাবে টেস্টে অভিষেক হলো ১৭ বছর বয়সী অফস্পিনার নাঈম হাসানের।

চট্টগ্রাম টেস্টে মাত্র একজন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। একাদশে একমাত্র পেসার হচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমান। স্পিনার হিসাবে আছেন তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান। তাছাড়া স্পিনারদের তালিকায় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান তো আছেনই।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ যে একাদশ নিয়ে খেলেছিল তা থেকে এই একাদশে মোট তিনটি পরিবর্তন এসেছে। বাদ পড়েছেন আরিফুল হক, লিটন দাস ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ। একাদশে ঢুকেছেন সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার ও নাঈম হাসান।