মুঠোফোন ভিত্তিক ইন্টারনেট সহ সকল প্রকার ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর দাবি

২২ এপ্রিল ২০১৭ইং শনিবার বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের এ দাবি জানান সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা প্রদান করে দেশের বাজারে প্রযুক্তির সম্ভার গড়ার ও প্রসার ঘটনোর যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা যুগোপযোগী হলেও এ খাতে ভোক্তা স্বার্থ রক্ষা ও প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার ফলে ও যুগোপযোগী নীতিমালা বা আইন না থাকায় প্রযুক্তি খাতের ভোক্তারা আজ চরম বিপাকে। গ্রাহকদের পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সরকারের রাজস্ব আদায় ও অপারেটরদের বিরাট অংকের মুনাফা করলেও গ্রাহকদের কোন স্বার্থের কথা চিন্তা করা হয় নাই। ২০১৩ সালে দেশের ১ম থ্রি-জি প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে মুঠোফোন ভিত্তিক ইন্টারনেট চালু হয়। উন্নত বিশে^ ৫-জি চালু হলেও আমরা থ্রি-জি প্রযুক্তি আজ অবধি সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারি নাই। ইতিমধ্যে সরকার ফোর-জি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমানে থ্রি-জি প্রযুক্তি সম্পন্ন হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭ কোটি ৩০ লক্ষ। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা ৬ কোটি ৭২ লক্ষ। এর মধ্যে মুঠোফোন ভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ৩১ লক্ষ। যা মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৯৪%। যদিও বিশ^ব্যাংক ও ইন্টারনেট লাইভ স্ট্যাটাসের পরিসংখ্যান ২ কোটির কিছু বেশি। সেই হিসেবে পিছিয়ে পড়া ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৫৪ তম। এর অন্যতম কারণ ইন্টারনেটের অতিরিক্ত দাম, সচেতনতার অভাব, দুর্বল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত ফাইবার অপটিক্যাল সহ সাইবার নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চায়। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস টেলিকম খাত। কথাটি যে সত্য তার প্রমাণ আমরা পাই এই খাতের রাজস্ব আদায়ের চিত্র পর্যবেক্ষণ করলে। বর্তমানে সম্পূরক শুল্ককর ১৫% + মূল্য সংযোজন কর ৫% + সারচার্জ ১% + রাজস্ব ভাগাভাগি ৫% + সামাজিক উন্নয়ন তহবিল ২% সহ অপারেটরদের উপর অন্যান্য অর্পিত কর মিলিয়ে মোট আদায় ৫৫%। যা কিনা আবার চক্রবৃদ্ধি হারে। এরপর রয়েছে আইজিডব্লিউ, আইসিএক্স ও এনটিটিএন সহ অন্যান্য অপারেটরদের লভ্যাংশ। সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব এবং অপারেটরদের অতিরিক্ত মুনাফার শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা। যাতে মাত্র ২৫ টাকার ১ গিগাবাইটের ইন্টারনেটের ৩০ দিন মেয়াদের জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা। এতেই প্রমাণিত হয় গ্রাহকরা কি পরিমাণ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এরপর রয়েছে দুর্বল নেটওয়ার্ক যার ফলে ইন্টারনেটে প্রবেশ করতেই একজন গ্রাহককে ৫ থেকে ১০ এমবি ডাটা ব্যয় করতে হয়। আমাদের প্রশ্ন এসকল উদ্যোগ কি সত্যিকারেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য। নাকি লোক দেখিয়ে জনগণকে প্রতারণার শিকার করার জন্য। গত ২৭ মার্চ ২০১৭ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডিজিটাল টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকে ইন্টারনেটের প্রকৃত মূল্য নির্ণয় বা কষ্ট মডেলিং করার জন্য একজন বিদেশী পরামর্শক নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা। আমরা এমন একটি দেশে বসবাস করি যেখানে আমাদের ব্যয়ভার কত হবে তা নির্ণয় করার জন্যও বিদেশী লোক ভাড়া করতে হয়। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই যেখানে থ্রিজি প্রযুক্তি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে যেখানে ফোর-জি চালুর পূর্বেই এ খাতের সকল বিশৃঙ্খল অবস্থা দূর করে একটি জনবান্ধব প্রযুক্তি সেবা খাত তৈরি করার জন্য। সেই সাথে দেশের জনগণের সামর্থ বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে পরামর্শ করে ইন্টারনেটের মূল্য যেন নির্ণয় করা হয়।
আমাদের কতিপয় পরামর্শ ও সুপারিশ উল্লেখ করছি
১. উন্নত দেশের মানদন্ড বিচার না করে দেশের জনগণের প্রকৃত অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে যেন ইন্টারনেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
২. অপারেটরদের লোভনীয় অফার না দিয়ে মানসম্মত সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. এ খাতের শুল্ক কমাতে হবে। তাতে করে দেশের ১৬ কোটি মানুষই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে এবং সরকারের রাজস্ব দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে।
৪. প্রযুক্তি খাতের ভোক্তাদের জন্য আলাদা প্রযুক্তি বান্ধব ভোক্তা অধিকার আইন প্রণয়ন করতে হবে।
৫. ফোর-জি চালুর পূর্বেই নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা উন্নত ও ছত্রতত্র ভাবে মোবাইল ফোন টাওয়ার তৈরি করা বন্ধ করতে হবে।
৬. ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্য নির্ধারণ করে দিতে হবে। যার সর্বোচ্চ মাসিক দাম ১০০ টাকার বেশি হবে না।
৭. প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে ব্যাপকভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, আমরা মনে করি সরকার সত্যিকার অর্থেই যদি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চায় তাহলে এ খাতকে জনবান্ধব, নিরাপদ, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষিত এবং সকলের জন্য এ প্রযুক্তি ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। তবেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভবপর।
মানববন্ধনের আরো উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু বক্কর সিদ্দিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আমানুল্লাহ মাহফুজ, গণমোর্চার আহ্বায়ক মোঃ মাসুম, সংগঠনের সদস্য রেজাউল করিম, আব্দুর রাজ্জাক, নূর মোঃ সিরাজী, আফজাল হোসেন প্রমুখ।
বিজ্ঞপ্তি