মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা

নিজস্ব সংবাদদাতা : জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এই মামলায় জামিন পেলেও এখনই মুক্তি হচ্ছে না তার। কারণ, তিনি কুমিল্লায় বাসে পেট্রল বোমা হামলা মামলায় গ্রেপ্তার আছেন।

এ ছাড়াও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও অন্তত চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর ওপর আদেশ হবে আগামীকাল।

বাকি দুটি মামলায় একটিতে জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে গত ৮ মে। অপর একটি মামলায় শুনানি আটকে আছে। আবার একটি মামলা যুক্তি উপস্থাপন পর্যায়ে আছে যেটিতে তিনি জামিনে আছেন।

বিএনপির আইনজীবীরা এসব মামলায় জামিনের জন্য স্ব স্ব আদালতের বদলে উচ্চ আদালতে আবেদনের পরিকল্পনা করছেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বাধার বিষয়টি নিয়ে এক প্রশ্নে আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘সরকার তো সব সময় বাধা দেয়। এখন তার বিরুদ্ধে অন্য যেসব মামলা আছে সেগুলোতে দ্রুত হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করব। আইনি প্রক্রিয়ায় সব বাধা দূর করা হবে।’

বিএনপি প্রধান গ্রেপ্তার আছেন ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রল বোমা হামলা চালিয়ে আটজনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার। কুমিল্লা আদালতে এই মামলার হুকুমের আসামি খালেদা জিয়ার পরবর্তী জামিন শুনানি হবে ৭ জুন। একই ঘটনায় করা বিস্ফোরক আইনে করা মামলার শুনানি হচ্ছে না।

১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগেও করা মামলাতেও আছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম মামলাটি করেন। ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এর ওপর শুনানি হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। যদিও একাধিক দিন এই আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছেন বিচারক।

স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে করা মানহানির মামলাতেও খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আদেশ হবে আগামীকাল।

এই মামলায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৪ মার্চ এবং পরে ২৫ এপ্রিল বিএনপি প্রধানকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয়। কিন্তু তিন দিনই বিচারক তা নাকচ করেন।

২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকীর করা মামলায় গত বছরের ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায়ও মামলা রয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিক।

২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর এক আলোচনায় খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আজকে বলা হয়, এতো লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে।’

একই ঘটনায় নড়াইলে করা একটি মামলাতে ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। এই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নাকচ হয় গত ৮ মার্চ। আর সব শেষ জামিন শুনানি হয় ৮ মে। সেদিন বিএনপি প্রধানের জামিন নাকচ হয়।

এর মধ্যে জিয়া সর্বাধিক আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আজ খালেদা জিয়া জামিন পেয়েছেন। কিন্তু এতদিন কথা না হলেও এখন এসব মামলা বড় হয়ে উঠবে। কারণ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে এবং গ্রেপ্তার দেখানো হলে আইনত বিএনপি নেত্রীর মুক্তি সুযোগ নেই আদালতের আদেশ ছাড়া।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সগির হোসেন লিওন জানান, ‘জিয়া অরফানেজ মামলায় জামিন পেলেও চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া।’

বিএনপি এখন কী করবে-জানতে চাইলে দলীয় প্রধানের আরেক আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘যেসব মামলায় খালেদা জিয়াকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে সেগুলোর কোনো সারবত্ত্বা নেই। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যেই মুক্তি পাবেন তিনি।’

কিন্তু আদালতের আদেশ ছাড়া তো মুক্তি সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি মামলাতেই পরবর্তী শুনানির জন্য অপেক্ষা করতে হবে কি না-এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোকন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্য যেসব মামলা আছে সেগুলোতে দ্রুত হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করব।’

বিএনপি প্রধানের আরেক আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেন, ‘কিছুটা বাঁধা আছে। কারণ সরকার নানা কৌশলে চেষ্টা করবে, তার মুক্তিটা বিলম্বিত করার জন্য। নিচের (বিচারিক) আদালতের কতগুলো মামলায় তাকে আসামি দেখানো হয়েছে। সে মামলাগুলোতে তার জন্য আমাদের জামিন নিতে হবে। সেই জামিন নিতে যতটুকু সময় লাগে, সেই সময়টুকু পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমরা খুব চেষ্টা করব খুব দ্রুত গতিতে…।

মওদুদ আহমেদ আরও বলেন, এখন নিম্ন আদালতে জামিন পেতে আর খুব বেশি অসুবিধা হবে না। সুতরাং খুব শিগগির আমরা চেষ্টা করব, ওই মামলাগুলোতে উনার জামিন নিতে। কারণ, আমাদের তো একটা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুলো সম্পন্ন করতে হবে। সুতরাং সেই জামিনগুলো পাওয়ার পরে খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন এবং খুব শিগগির ফিরে আসবেন।

Inline
Inline