মুক্তিযোদ্ধা হাসানের নামে রাস্তা করবেন জাহাঙ্গীর

টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা : গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকারের নামে একটি রাস্তা করার ঘোষণা দিয়েছেন নব নির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ঘোষণা দিয়েছেন, নগর পরিচালনায় তার বুদ্ধি, পরামর্শ মেনে চলার।

বুধবার টঙ্গীর আউচপাড়ায় হাসান সরকারের গড়ে তোলা এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিএনপি নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ কথা জানান জাহাঙ্গীর।

ভোটকে ঘিরে টানা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে একে অন্যের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে থাকা দুই নেতার এই ‘কাছাকাছি’ আসা এক আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছ।

গত ২৬ জুন ভোটের পর দিনই জাহাঙ্গীর বলেছিলেন, তিনি হাসান সরকারের কাছে যাবেন, নগরের উন্নয়নে তার সহযোগিতা চাইবেন।

আর ভোটের আট দিন পর দুই নেতার প্রথম সাক্ষাতে কুশল বিনিময়, কোলাকুলি, মিষ্টি খাইয়ে দেয়া, মাথায় হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ করার সাক্ষী হয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

হাসান সরকার একাত্তরে রণাঙ্গনের একজন যোদ্ধা। সেই স্মৃতি তুলে ধরে নবনির্বাচিত মেয়র বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার স্মৃতি রক্ষার্থে আমি তার নামে একটি রাস্তা করতে চাই। বিরোধী দলকে সম্মান দিয়ে আমি রাজনৈতিভাবে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদটা চালাতে চাই।’

নগরীর উন্নয়নে হাসান সরকারের পরামর্শ নেয়া হবে জানিয়ে তার কাছে সহযোগিতাও চান জাহাঙ্গীর আলম। জবাবে হাসান বলেন, তিনি সহযোগিতায় সদা প্রস্তুত। ভোটের আগে জনগণকে দেয়া ওয়াদা বাস্তবায়নের পরামর্শও দেন তিনি।

‘সব ভাল কাজে আমি জাহাঙ্গীরকে সহযোগিতা করব। মেয়রকে বলব, মনে যা পোষণ করবেন তাই যেন মুখে বলেন।’

এই সাক্ষাৎ যেন লোক দেখানো এবং ছবি তোলার জন্য না হয়, সেটিও জাহাঙ্গীরকে জানিয়ে দেন স্পষ্টভাষী হাসান। বলেন, ‘যদিফটোসেশন করাটাই যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে আমার কাছে আসার কোনো অর্থ নেই। এখানে আসা তখনই অর্থবহ হবে, যখন যা বলেন তা যদি করেন।’
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নে সবাই হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ রেখে একসঙ্গে মিলেমিশে উন্নয়ন কাজ করে যাব।’

‘আমি গাজীপুর সিটিকে কাঙ্ক্ষিত ক্লিন সিটি গ্রিন সিটি করতে যা যা করা দরকার সবাইকে নিয়ে তা করতে চাই।’

জাহাঙ্গীরের সঙ্গে হাসান সরকারের কাছে এসেছিলেন নবনির্বাচিত বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরও। তাদেরকে পায়েস খাইয়ে আপ্যায়ন করেন বিএনপি নেতা।

গত ২৬ জুনের ভোটে হাসানকে দুই লাখেরও বেশি ভোটে হারিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। তবে হাসানের অভিযোগ, প্রশাসনকে ব্যবহার করে আর কেন্দ্র দখল করে সিল মেরে তাকে হারানো হয়েছে।

২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির এম এ মান্নানও ভোটের পর মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী আজমত উল্ল্যা খানের কাছে। সে সময়ও দুই নেতা একে অপরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

Inline
Inline