মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা : গুলিবিদ্ধ ৫

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা বিশেষ প্রতিনিধি : শান্ত খুলনা হঠাৎ অশান্ত হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের চার মাসে তেমন অঘটন ঘটেনি। কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে জেলা ও নগরে জোড়া হত্যাকান্ডসহ ৭টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। খুলনা নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে শাহাদাৎ হোসেন মোল্যা (৬৫) নামের এক মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর রায়েরমহল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাদাত মোল্লা ওই এলাকার মৃত গয়ের মোল্যার পুত্র। ৩ ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা বাইপাস সড়কের মোস্ত’র মোড়ের সন্নিকটে রায়েরমহল এলাকায় হামিদনগর হাজি মোঃ মহসিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ মোল্লা তার কয়েকজন সহকর্মীসহ অবস্থান করছিলেন। গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিদ্যালয়ের পেছন থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়িভাবে গুলি করে। ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এ সময় লিয়াকত আলী খান (৬৭) ও তার ছেলে মোস্তফা খান (৩৮) এবং আজম তালুদকার (২৬), রুবেল (৩৫) ও বুলবুল (৩০) নামে অপর পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে মোস্তফা খানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতরা রায়ের মহল স্লুইসগেট এলাকার বাসিন্দা। নিহত মোল্লা শাহাদাৎ হোসেন ঘের ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সাথে তার দ্বন্দ্ব চলছিল। মোল্লা শাহাদাৎ হোসেনের চার ছেলের মধ্যে তিনজন বিদেশে থাকেন। অপরজন ঢাকায় ব্যবসা করেন। নগরীর মোল্লাবাড়ির মোড় ও রায়েরমহলে তার দু’টি বাড়ি আছে। দিনের অধিকাংশ সময় ও সন্ধ্যার পর তিনি রায়েরমহল এলাকায় থাকতেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় একবছর পূর্বে এলাকায় কয়েকজন সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ ধরিয়ে দিয়েছিলেন মোল্লা শাহাদাৎ হোসেন। তারপর থেকে ওই গ্রুপের সাথে তার দ্বন্দ্ব হয়। এরপর থেকে তিনি সব সময় তার কাছে শর্টগান রাখতেন। এছাড়া এলাকায় মাদক বিক্রিতে তিনি বাধা দিতেন। এর ফলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর এই হামলা করে।
সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস জানান, নিহত শাহাদাৎ মোল্লা বর্তমানে ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য। তবে প্রস্তাবিত সোনাডাঙ্গা থানা কমিটিতে তাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক রাখা হয়। নিহতের ভাই জানান, শাহাদাৎ সোনাডাঙ্গা থানা মুক্তিযোদ্ধা লীগের সাধারণ সম্পাদক।
অপর একটি সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’ গ্রুপের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাৎ মোল্লা নিহত হন। প্রতিপক্ষ গ্রুপের দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
এদিকে, খুলনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফুলতলা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠুর জোড়া হত্যাকান্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ৩১ মে নগরীর আড়ংঘাটা থানার বাইপাস সড়কের আকমানের মোড়ের খাল থেকে পুলিশ অজ্ঞাত (৫৫) পরিচয়ের এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। আড়ংঘাটা থানার সেকেন্ড অফিসার শেখ হিলাল উদ্দীন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গুলি করে হত্যার পর লাশটি খালে ফেলে দেয়া হয়। তার মাথায় একটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। এখনও পর্যন্ত তার কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার একদিন পরই নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ১নম্বর বয়রা ক্রসরোড এলাকায় পারিবারিক কলোহের জেরে শেখ মোস্তাক আলী ওরফে হোন্ডার ফকির (৬৪) নামে এক ব্যক্তি খুন হন। নিহত মোস্তাক আলী স্থানীয় মৃত অখিল ফকিরের ছেলে। তিনি ইজিবাইকের গ্যারেজের ব্যবসা করতেন। একইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ রূপসা উপজেলার আঠারোবেকী নদীর একটি ইটভাটার ঘাট থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মস্তকবিহীন অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২ জুন রাত ৮টার দিকে দৌলতপুর আঞ্জুমান রোডের একটি মসজিদের অদূরে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের দৌলতপুর থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ইকবাল সরোয়ারকে (৪৮) গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
উল্লেখ্য, গেল বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর নগরীর দোলখোলা শীতলাবাড়ী এলাকায় দুর্বৃত্তরা আওয়ামী লীগ নেতা জেডএ মাহমুদ ডনকে হত্যার উদ্দেশে গুলি করে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তিনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও ওই গুলিতে পূজার জন্য ফুল কিনে বাসায় ফেরার পথে শিপ্রা রানী কুন্ডু নামে এক পথচারী নারী নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও নগর ও জেলা মোটামুটি শান্ত ছিল।