মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির অপচেষ্টা রুখে দাঁড়াতে হবে : রাষ্ট্রপতি

আনোয়ার উল আলম (শাহিন) গাজীপুর থেকে : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বিগত দিনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি আমাদের মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক মিথ্যাচার করেছে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শিক্ষা দেয়ার অপচেষ্টা হয়েছে। যারা ইতিহাস বিকৃতি করেছে তারা সবকিছু জেনেশুনে করেছে। তারা বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভয় পায় বলেই এসব করেছে এবং করছে।
সোমবার বিকেলে গাজীপুর শহরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে ১৯ মার্চ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বীর ও শহীদদের নাগরিক গণসংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি এখনো একাত্তরে তাদের পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে পারেনি। তাই এসব অপশক্তি সুযোগ পেলেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠতে চায়। এরা দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের শত্রু। তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে তাদের যে কোনো ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা রুখে দাঁড়াতে হবে। আর এ জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা বিকাশ ঘটাতে হবে। আমাদের নতুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আবদুল হামিদ বলেন, ঐতিহাসিক ১৯ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ আমাদের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইল ফলক। এ প্রতিরোধ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিকে তরান্বিত করে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকেও উৎসাহিত করে। ১৯ মার্চের ঘটনা মূলত তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদেরই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখন স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশটির জন্ম সে দেশ আজ সগৌরবে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
১৯ মার্চ স্বাধীনতার প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীরের সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন সবুজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আখতারউজ্জামান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, আওয়ামী লীগের মহানগর উপদেষ্টা  হাজী আলী আকবর মোল্যা, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
এর আগে রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। রাষ্ট্রপতিও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক পরষ্পরকে ক্রেস্ট প্রদান করেন।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নৃত্য ও কোরাস পরিবেশিত হয়। সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি প্রজ্জ্বলিত ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের আজ কাশিমপুর কারাগার পরিদর্শন শেষে ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।