মুক্তমনির রক্তনালীতে টিউমার, অপারেশন শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন সাতক্ষীরার ১২ বছরের মেয়ে মুক্তামনির রক্তনালীতে টিউমার ধরা পড়েছে। হাতের রোগটি শনাক্তে করা বায়োপসি রিপোর্টে পাওয়ার পর তার রক্তনালীতে টিউমারের উপস্থিতি ধরা পড়ে। রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার পর মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঢামেকের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত শনিবার মুক্তমনির বায়োপসি রিপোর্টে করা হয়। গতকাল রাতে আমরা সেই রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। রিপোর্ট অনুযায়ী রোগটি বিরল নয়। তবে মুক্তামনির রক্তনালীতে টিউমার ধরা পড়েছে। সেটি সরাতে অস্ত্রোপচার করতে হবে। আগামী শনিবার সকাল আটটায় অস্ত্রোপচার করা হবে। সামন্ত লাল সেন বলেন, অস্ত্রোপচারের জন্য আমরা একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছি। ১৩ সদস্য বিশিষ্ট এই বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে ঢামেকের বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক আবুল কালামকে। সাতক্ষীরায় জন্ম নেয়া মুক্তামনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় অস্বাভাবিক দুগর্ন্ধযুক্ত বড় ধরনের হাত নিয়ে। মুক্তামনি স্বাভাবিকভাবেই জন্ম নিয়েছিল। দুই বছর বয়সে তার ডান হাতে ছোট একটি টিউমার দেখা যায়, যা ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করে এবং গত দুই বছর ধরে ব্যাপক আকারে বাড়তে থাকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হওয়ার পর দেখা যায়, মুক্তমনি খুবই দুর্বল, অপুষ্টি ও রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত। বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষার পাশাপাশি তার রক্তপূরণে এবং ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকেরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামনির ব্যাপারে জেনে তার চিকিৎসার সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মুক্তামনিকে দেখতে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তার চিকিৎসার সব দায়িত্ব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বলে জানান মন্ত্রী। এরমধ্যে মুক্তামনির রক্তের প্লেটলেট বারবার কমে যাওয়ার কারণে বায়োপসি নেয়া প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছিল। এই কথা জেনে প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসার ব্যাপারে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। গত ২৭ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সাথে বোর্ড মিটিং শেষ হয়। পরবর্তী সময়ে ই-মেইলের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল জানায়, মুক্তামনির এই রোগটি ভালো হবার নয়। অপারেশনের মতো নয়, তারা সবরকমভাবেই রোগটির পরীক্ষা-নীরিক্ষার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবেন না। এরপর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অভিমত প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকদের সাধ্যমত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর গত ২ আগস্ট ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল বোর্ডের মিটিংয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সবধরনের সতর্কতা অবলম্বন করেই তার চিকিৎসা করার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তের পর গত শনিবার সকালে তার অপারেশন হয়। পরে তার রক্তক্ষরণ হলে পুনরায় তাকে নেয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। সেখান থেকে তাকে বর্তমানে বার্ন ইউনিটের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।