মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে কি না অক্টোবরে জানাবে আইসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা ইস্যুতে অফিসিয়ালি তদন্ত শুরুর আগে বাংলাদেশের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে চায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশে সফররত আইসিসি প্রতিনিধি দলের প্রধান জেমস স্টুয়ার্ট। তিনি আইসিসির উপ-কৌঁসুলি।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করবেন কি না সে বিষয়ে আইসিসি চলতি বছরের অক্টোবরে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি। আইসিসির এ উপ-কৌঁসুলি বলেন, সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতিবাচক জবাব এসেছে।

জেমস স্টুয়ার্ট বলেন, ‘আমরা আইসিসিতে তথ্য উপাত্ত জমা দেব। এরপর আইসিসি সিদ্ধান্ত নেবে এ বিষয়ে অফিসিয়ালি তদন্ত করবে কি না। এটা সম্পূর্ণ আইসিসি ও এর বিচারকদের এখতিয়ার।’

তিনি বলেন, মিয়ানমার আইসিসির সদস্য না হলেও বাংলাদেশ সদস্য। ফলে এ দেশের সীমানায় সংঘটিত যেকোনো অপরাধের তদন্ত আইসিসি করতে পারে।

২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর রাখাইন থেকে মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের মাধ্যমে লাখ লাখ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতারবিরোধী কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন।

তিনদিনের এ সফরে বাংলাদেশ সফররত আইসিসি প্রতিনিধি দলটি গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন।

জানা যায়, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা আর মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তের বিষয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে আইসিসিতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এসব বৈঠকে। তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী এলাকা পরিদর্শন করে।

রোহিঙ্গাদের জোর করে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে কি না -তা নিয়ে তদন্তের এখতিয়ার এবং এ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল প্রাক-বিচারিক আদালতে আবেদন জানান আইসিসির কৌঁসুলি ফেতু বেনসুদা।

চলতি বছরের মার্চে বাংলাদেশ সফরে এসে আইসিসির তথ্যানুসন্ধানকারী দল গণহত্যা আর মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়ে রোহিঙ্গাদের যেভাবে রাখাইন থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তা বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ খুঁজে পেয়েছে। ফেতু বেনসুদা রোহিঙ্গা বিতাড়নের তদন্তে বিচারিক অনুমতি চেয়ে গত ৪ জুলাই প্রাক-বিচারিক আদালতের কাছে অনুরোধ জানান। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় এসেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে জেমস স্টুয়ার্ট বলেন, আইসিসি এখনও মিয়ানমার যায়নি। তবে আমরা রাখাইনে যাওয়ার চেষ্টা করব। বিচারকার্য শুরু হলে মিয়ানমারকে আহ্বান জানাব যাতে বিচারকাজে অংশগ্রহণ করে। এভাবে প্রক্রিয়াটি চলতে থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভেতরে প্রবেশ করতে পারি না। আইসিসির ম্যান্ডেট শুধু আইনগত। আমাদের রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের কোনো সুযোগ নেই।

জেমস স্টুয়ার্ট বলেন, আইসিসি স্থায়ী এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। যদি আমরা এ ইস্যুতে তদন্তের অনুমতি পাই, তাহলে আইন অনুযায়ী কাজ করব। স্বাধীনভাবে, পক্ষপাতিত্বহীনভাবে কাজ করাই আমাদের মূলনীতি।