মিত্রদের নিয়ে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ায় পূর্ব গৌতার দুমা শহরে রাসায়নিক হামলাকে কেন্দ্র করে দেশটির সরকারনিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেন। খবর বিবিসির।

শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দুই দেশ এই হামলা শুরু করে। সিরিয়া বিমান বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার প্রথম প্রহরে হোয়াইট হাউস থেকে এই আক্রমণ ‍শুরুর ঘোষণা দেন, যার হুঁশিয়ারি তিনি আগেই দিয়ে রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে আমি যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীকে সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের রাসায়নিক অস্ত্রের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর নির্দেশ দিয়েছি। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে এই আক্রমণ চলছে।’

ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরপরই সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বড় ধরনের বিস্কোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

পেন্টাগনের বিবৃতি দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিত্র বাহিনী সিরিয়ার মোট তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। একটি হামলা করা হয়েছে দামেস্কের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র প্রস্তুতকারী একটি গবেষণাগারে। অন্য দুটি হামলা আঘাত হেনেছে হোমসে রাসায়নিক অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও রাসায়নিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ রক্ষণ কেন্দ্রে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করা হয়েছে, এক ডজনের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র সিরিয়ার সরকারি বাহিনী লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছে। দামেস্কে তাদের একটি গবেষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর হোমসে তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস সাংবাদিকদের বলেছেন, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এমন কোনো তথ্য নেই।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘সিরিয়া নিষিদ্ধ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করার আগ পর্যন্ত আমাদের হামলা চালু রাখার প্রস্তুতি নিয়েছি।’

তবে ম্যাটিস বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে এটি ‘ওয়ান টাইম শট’ অর্থাৎ একবারের জন্য হামলা।’

গত শনিবার সিরিয়ায় গৌতায় রাসায়নিক গ্যাস হামলার অভিযোগ উঠে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ৭০ জন নিহত হয়েছে বলে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জানায়।

হামলার ঘটনায় সিরিয়ার মিত্র দেশ রাশিয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে রাশিয়া বলেছে, এ ধরনের আক্রমণের প্রতিক্রিয়া অবশ্যই পাওয়া যাবে।

রাশিয়ার ভাষ্য, আগে থেকে ঠিক করা রাখা দৃশ্য কেবল মঞ্চায়ন করল যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের সতর্ক করে রাশিয়া বলেছে, এ ধরনের ঘটনা এমনি এমনি ছেড়ে দেয়া হবে না। এর জন্য সব দায় থাকবে ওয়াশিংটন, লন্ডন আর প্যারিসের।

গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া জানিয়েছে, সিরিয়ার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে মস্কো জবাব দেবে। কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে তা আকাশেই ধ্বংস করা হবে।

বিশ্বের শীর্ষ দুই ক্ষমতাধর দেশটির দুই নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর মিত্রদের নিয়ে সিরিয়ায় হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র।

সিরিয়ার দোমা শহরে কথিত রাসায়নিক হামলার জবাবে হামলার প্রস্তুতি নেয়ার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, সিরিয়া সরকারের রাসায়নিক অস্ত্রাগারগুলোই হবে মার্কিন সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু।