মাহমুদ হোসেনকে স্বাগত জানালেন বিএনপিপন্থীরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে স্বাগত জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। এই সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রধান বিচারপতিকে অভিনন্দন জানাবেন তারা।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বিএনপিরও কেন্দ্রীয় নেতা।

শনিবার সন্ধ্যায় এ উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্টের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। এসময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রধান বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে স্বাগত জানানোর কথা বলা হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এই শপথ পাঠ করান।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এরপর সন্ধ্যায় পদত্যাগ করেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়া, যিনি এতদিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে পাস করা সৈয়দ মাহমুদ হোসেন জীবনের শুরুতে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হন।

২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের শেষ বছরে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান মাহমুদ আলী।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার দুই বছর পর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মাহমুদ হোসেন আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার অবসরে যাওয়ার সময় নির্ধারিত আছে।

সংবাদ সম্মেলনে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রধান বিচারপতির পদ খালি ছিল। দেশের ইতিহাসে কখনো এধরনের ঘটনা ঘটেনি। প্রধান বিচারপতির পদ খালি থাকার কারণে আইনজীবী, বিচার প্রার্থীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পর সবার মধ্যে স্বস্তি এসেছে।’
প্রধান বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ তুলে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘অবশ্যই আমরা বলবো এখানে সুপারসেশন (জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন) হয়েছে। আইনজীবী সমাজ, দেশের মানুষ এবং সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। দলমত নির্বিশেষে সবকিছুর ঊর্ধ্বে তারা থাকতে চায় এবং সব সময় এই বারকে দলনিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করবো।’

প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, ‘আইনজীবী সমিতি বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের পক্ষে নয়। তারপরেও যেহেতু পরিবর্তিত পরিস্থিতে এই নিয়োগটি গতকাল হয়েছে, তাই আমরা মনে করি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির শূন্যপদ পূরণ হয়েছে। এ কারণে আমরা আজকের শপথ অনুষ্ঠানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

জয়নুল আবেদীন জানান, আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তারা প্রধান বিচারপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানাবেন।

এর আগে বিকাল পাচঁটায় আইনজীবী সমিতির এক জরুরি সভা ডেকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান জয়নুল আবেদীন।

সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহসভাপতি অজি উল্লাহ, সহসম্পাদক উম্মে কুলসুম রেখাসহ সমিতির আওয়ামী ও বিএনপিপন্থী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Inline
Inline