মাশরাফি-মিরাজ জুটিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৭৩

ক্রীড়া ডেস্ক : ইনিংসের ৩৪তম ওভারে দলীয় ১০১ রানে সপ্তম উইকেটের পতন ঘটেছিল বাংলাদেশের। তখন সকলের মনে শঙ্কা বাকি তিন উইকেটে আর কতদূর যাবে বাংলাদেশ? ১৫০ পার করতে পারবে তো? না তার আগেই অলআউট হয়ে যাবে। দলের টপ অর্ডার, মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা যেখানে হতাশ করলেন সেখানে অষ্টম উইকেট জুটিতে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে ৬৬ রানের পার্টনারশিপ গড়লেন মাশরাফি বিন ‍মুর্তজা। যার ফলে দলের সংগ্রহটাও একটু বেড়েছে। ৪৯.১ ওভারে ১৭৩ রান করে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।

মাশরাফি বিন মুর্তজা ৩২ বল খেলে করেছেন ২৬ রান। এই ইনিংস খেলার পথে তিনি দুইটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। ৫০ বল খেলে ৪২ রান করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই ইনিংস খেলার পথে তিনি দুইটি চার মারেন ও দুইটি ছক্কা হাঁকান। অন্যদের মধ্যে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৫ ও মুশফিকুর রহিম ২১ রান করেন।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া জ্যাসপ্রীত বুমরাহ ৩৭ রান দিয়ে তিনটি ও ভুবনেশ্বর কুমার ৩২ রান দিয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেছেন।

শুক্রবার এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বের প্রথম দিন ভারতের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায় টাইগাররা। দলীয় ১৫ রানে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে কেদার যাদবের হাতে ক্যাচ হন লিটন দাস। ১৬ বলে সাত রান করেন তিনি। দলীয় ১৬ রানে জ্যাসপ্রীত বুমরাহর বলে স্লিপে শিখর ধাওয়ানের হাতে ধরা পড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত।

এরপর সুবিধা করতে পারেননি সাকিব আল হাসান। ১২ বল খেলে ১৭ রান করে তিনি ফিরে যান সাজঘরে। ইনিংসের দশম ওভারে রবীন্দ্র জাদেজার বলে স্কোয়ার লেগে দাঁড়িয়ে থাকা শিখর ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ হন সাকিব আল হাসান।

দলীয় ৬০ রানে রবীন্দ্র জাদেজার বলে এলবিডব্লিউ হন মোহাম্মদ মিথুন। রিভিউ নিয়েও তিনি বাঁচতে পারেননি। ১৯ বলে নয় রান করেন তিনি। দলীয় ৬৫ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। ১৮তম ওভারে রবীন্দ্র জাদেজার শিকার হন মুশফিকুর রহিম। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে শর্ট থার্ড ম্যানে যুজবেন্দ্র চাহালের হাতে ক্যাচ হন মুশফিক। ৪৫ বল খেলে ২১ রান করেন তিনি।

৩৩তম ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে এলবিডব্লিউ হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৫১ বল খেলে ২৫ রান করেন তিনি। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে ৩৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন রিয়াদ।

দলীয় ১০১ রানে সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। ৩৩তম ওভারে রবীন্দ্র জাদেজার বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৪৩ বলে ১২ রান করেন তিনি। দলীয় ১৬৭ রানে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে জ্যাসপ্রীত বুমরাহর হাতে ক্যাচ হন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দলীয় ১৬৯ রানে জ্যাসপ্রীত বুমরাহর বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইনিংসের শেষ ওভারে জ্যাসপ্রীত বুমরাহর বলে শিখর ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ হন মোস্তাফিজুর রহমান।

গতকাল গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৩৬ রানে হারে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে ছিলেন না মুশফিকুর রহিম ও মোস্তাফিজুর রহমান। আজকের ম্যাচে দুজই একাদশে ফিরেছেন। বাদ পড়েছেন মুমিনুল হক ও আবু হায়দার রনি।

২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর থেকে এবার দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে একাদশে নেই তামিম ইকবাল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হাতে ব্যথা পাওয়ার পর এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে যান তামিম ইকবাল। পরে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ইনিংস: ১৭৩ (৪৯.১ ওভার)

(লিটন দাস ৭, নাজমুল হোসেন শান্ত ৭, সাকিব আল হাসান ১৭, মুশফিকুর রহিম ২১, মোহাম্মদ মিথুন ৯, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৫, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১২, মাশরাফি বিন মুর্তজা ২৬, মেহেদী হাসান মিরাজ ৪২, মোস্তাফিজুর রহমান ৩, রুবেল হোসেন ১*; ভুবনেশ্বর কুমার ৩/৩২, জ্যাসপ্রীত বুমরাহ ৩/৩৭, যুজবেন্দ্র চাহাল ০/৪০, রবীন্দ্র জাদেজা ৪/২৯, কুলদীপ যাদব ০/৩৪)।