মার্চের গল্প শোনালেন এক বীর মুক্তিযোদ্ধা

রাবি সংবাদদাতা : ‘রক্ত স্নাত কাটাভূমির ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করা হয়।’ ‘ঠিক কবে এটা সংঘটিত হয়েছে তা বলতে পারব না তবে, রাজশাহীর চারঘাটের পদ্মা নদীর পাশে প্রায় ৪০০ নিরস্ত্র মানুষকে এক ঘণ্টার মধ্যে মেরে ফেলা হয় বলে পরে জানতে পারি। পাকবাহিনী আসে রকেট লাঞ্চার নিয়ে আর বাঙালি ইপিআর পুলিশ থ্রি নট থ্রি রাইফেল দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে।’

‘এদিকে আমার বাড়ির পাশে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া দিয়ে পাকবাহিনী রাজশাহীর দিকে ঢুকতে চেষ্টা করে। সেখানে মুক্তিবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মুক্তিবাহিনী সেখানে টিকতে পারেনি। এ সময় মুক্তিবাহিনীরা অসহায় হয়ে আমাকে বলতে থাকে স্যার এই যুদ্ধ করা অসম্ভব। পাকবাহিনীরা দুই/তিন মাইল দূর থেকে রকেট ছুঁড়ছে, কামান দাগছে তার সামনে আমাদের রাইফেল কোন কাজ করছে না।’

কথাগুলো বলতে বলতে চোখের কোণা থেকে জল গড়িয়ে পড়ল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম জুলফিকার মতিনের।

কেউ শব্দ করছে না। অধীর আগ্রহে কথাগুলো শুনছেন সবাই। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার মাসের গল্প শোনাচ্ছিলেন তিনি। সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তার অভিজ্ঞতার কথা তরুণ সাংবাদিকদের তিনি শোনান।

স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে দেশের সাধারণ মানুষ ছিল পুরাই অন্ধকারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে কি হচ্ছে তা জানা খুব কঠিন ছিল। বিশেষ করে গ্রামের মানুষ দেশ সম্পর্কে কোন খবর রাখতে পারত না। প্রথমদিকে ঢাকা বেতার পাকিস্তানিদের দখলে ছিল। সেখানে শুধু সামরিক আইন ভঙ্গের অপরাধ কি হতে পারে সে সম্পর্কে নিউজ প্রচার করা হতো। তবে কলকাতা রেডিওর ঘরোয়া অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে ঢাকার বিশৃঙ্খল অবস্থা সম্পর্কে আমরা কিছুটা ধারণা পায়।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১০ এপ্রিল প্রবাসী সরকার গঠনের মাধমে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আসে। এর মাধ্যমে ১১জন সেক্টর কমান্ডারের অধীনে দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। আর এর মাধ্যমেই স্বাধীনতা অর্জন অনেকটা সহজ হয়ে আসে। এই ১১টি সেক্টর থেকে আবার ৩টি এয়ার ফোর্স গঠন করা হয়। এই এয়ার ফোর্স এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন সহজ হয়।

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি রবিউল ইসলাম তুষারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মানিক রাইহান বাপ্পীর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন- বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এমদাদুল হক সোহাগ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শাহিন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশতাধিক সাংবাদিক ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।