মামলা থেকে বাঁচতে খালেদার বিদেশ যাত্রা: কামরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আইনের হাত থেকে বাঁচতে লন্ডন চলে গেছেন বলে দাবি করেছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলা শেষ পর্যায়ে, বারবার মামলার কাজ বিলম্ব করার কৌশল হিসেবে হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন। এখন বুঝতে পারছেন এতে কোন কাজ হবে না। এ কারণে শেষ চেষ্টা হিসেবে তিনি লন্ডন যাত্রা করেছেন।’রবিবর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় কামরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। ১৬ জুলাই ‘শিক্ষক নির‌্যাতন’ ও শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করেন খালেদা জিয়া। ২০০৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর যুক্তরাজ্যে খালেদা জিয়ার এটি তৃতীয় সফর। বিএনপি চেয়ারপারসন সেখানে কত দিন অবস্থান করবেন সে কথা বিএনপি নেতারা স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না।খালেদার এই সফরকে মামলা বিলম্বের কৌশল আখ্যা দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রার উদ্দেশ্য আলাদা। তার মামলা শেষ পর্যায়ে, বিলম্বের কৌশল অনেক করেছেন। গ্রাউন্ড ছাড়া বারবার চেষ্টা করছেন মামলা বিলম্ব করার। …সবশেষ যখন বুঝতে পারছেন আর হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট করে লাভ নাই। এটা বুঝতে পারছেন বলেই বেগম খালেদা জিয়ার আজ লন্ডন যাত্রা।’‘চিকিৎসার জন্য দুই মাস সময় লাগবে, আসলে দুই মাস কেন কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। মামলার জন্যে কোর্টে যাতে যেতে না হয় সে জন্য বহুদিন পর্যন্ত লন্ডন থাকবেন’-বলেন খাদ্যমন্ত্রী।কামরুল ইসলাম বলেন, মামলাটা শেষ পর্যায়ে এসে খালেদা জিয়া বিদেশে থাকার কারণ দেখিয়ে বিলম্ব করতে পারে, এই অযুহাত সৃষ্টির জন্যে তারা বিদেশ যাত্রা। কোর্ট যাতে মামলা প্রসিড না করতে পারে সেই অযুহাত সৃষ্টিই তার মুল উদ্দেশ্য। মামলার অগ্রগতি এই খানেই থামিয়ে দেওয়ার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার এই শেষ চেষ্টা।নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা এখন বিভিন্ন দাবি করছে। বিএনপি নেতারা বলছে শেখ হাসিনার অধীনে রোজ কিয়ামত পর‌্য নির্বাচনে অংশ নেবে না। নির্বাচনকে বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা অহেতুক কথামালা বলছে।’নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া বিএনপির কোন পথ নেই উল্লেখ করে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া আন্দোলন করার কোন শক্তি নেই। সহায়ক সরকারের দাবি শুরু তাদের মুখে শুনছি। পৃথিবীর কোন দেশেই এই সহায়ক সরকার নেই। সংবিধান থেকে একচুল বিচ্যুতি হওয়ার কোন সুযোগ নেই। সংবিধানের আলোকেই আগামীত জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে।’বিএনপির দাবির বিষয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দিয়ে তারা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে বলছে। সন্ত্রাসীদের মামলা প্রত্যাহার করলে নির্বাচনে বাধা হবে তারাই। সেই সমস্ত সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না। তারা তাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করছে।’