মাভাবিপ্রবি ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি : শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ৫ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে প্রশাসন।

সোমবার দিবাগত রাতে তাদের বহিষ্কার করা হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিরাজুল ইসলাম।

ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে লাঞ্ছনার প্রতিবাদ ও শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৫৬ শিক্ষক প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

এর আগে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সোমবার ১২টা ২০ মিনিটের দিকে রেজিস্ট্রার বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন মাভাবিপ্রবির ৫৬ জন শিক্ষক। এদের মধ্যে ২ জন রিজেন্ট বোর্ড সদস্য, ৪ জন ডিন, ৪ জন প্রভোস্ট, ১৪ জন বিভাগীয় চেয়ারম্যান, সকল হাউস টিউটর ও সকল সহকারী প্রক্টরও রয়েছেন।

এরপর সোমবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি সভায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদারসহ ৫ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

গত শনিবার পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ২য় সেমিস্টারের ফল ঘোষণা করা হয়। এতে ঈশিতা বিশ্বাস নামের এক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। তার ফলাফল ছিল ৪ এর মধ্যে ১ দশমিক ৯৮।

তবে পরিক্ষায় ফেল করার পরেও ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদারসহ নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অমান্য করে ঈশিতাকে ৩য় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী দাবি করেন। পরীক্ষা চলাকালে ওই ছাত্রলীগ নেতা তার সহযোগীদের নিয়ে জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে পরীক্ষা কেন্দ্রের সিটে বসিয়ে দেন।

এসময় কর্তব্যরত শিক্ষক বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. মহিউদ্দিন তাসনিন তাদের বাধা দেন। বাধা দেয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগ সভাপতি সজীব তালুকদার দায়িত্বরত শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ মারধরের চেষ্টা করেন। শেষমেশ নেতাকর্মীদের পাহারায় পরীক্ষা শেষ করেন ওই ছাত্রী।

এখানেই শেষ নয়, পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডেকে অর্ডিন্যান্স পরিবর্তনের আন্দোলন করেন ওই নেতারা।

এ সময় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বন্ধও করে দেয় তারা।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছাত্রলীগের সভাপতি সজিব তালুকদারসহ দোষী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের দাবি করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় শিক্ষকরা প্রশাসনিক বিভিন্ন পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

Inline
Inline